শুভদীপ মাহাত, পুরুলিয়া:
পুরুলিয়ায় গ্রীষ্মের দাবদাহের সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে ব্লাড ব্যাংকগুলোতে দেখা দিয়েছে রক্তের তীব্র হাহাকার। মুমূর্ষু রোগীদের এই চরম সংকট মেটাতে এবং সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবার এক অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত স্থাপন করল সিধো-কানহো-বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের এনএসএস সেলের উদ্যোগে আয়োজিত হলো ষষ্ঠ রক্তদান শিবির।
সবচেয়ে গর্বের ও অভিনব বিষয় হলো, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এই প্রথমবার এমন একটি মহৎ উদ্যোগের সম্পূর্ণ নেতৃত্বে রয়েছেন এনএসএস-এর ছাত্রীরা। 'স্বামী বিবেকানন্দ সেন্টার ফর ইনোভেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন'-এর অধীনে আয়োজিত এই শিবিরে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে রেড রিবন ক্লাব, বিশ্ববিদ্যালয়ের এনএসএস ইউনিট ফোর এবং ওয়েস্ট বেঙ্গল ভলান্টারি ব্লাড ডোনার সোসাইটি।
গ্রীষ্মের এই কঠিন সময়ে কেন এমন জরুরি শিবিরের আয়োজন, তা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এনএসএস প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর ডক্টর সঞ্জয় মন্ডল বলেন, "বর্তমানে যেহেতু প্রচণ্ড ক্রাইসিস চলছে ব্লাড ব্যাংকে, প্রত্যেক বছরের ন্যায় এ বছর আরও একটু ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে, সেই জন্য আমাদের এই ইমার্জেন্সি ব্লাড ডোনেশন ক্যাম্প অর্গানাইজ করতে হচ্ছে।"
এক ইউনিট রক্ত যে তিনজন মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে এবং রক্তদানই যে শ্রেষ্ঠ জীবনদান, এই সচেতনতার বার্তা সকলের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। সমাজের বুকে নতুন জাগরণ তৈরি করার লক্ষ্যে ছাত্রছাত্রীদের এই মানবিক প্রচেষ্টার প্রশংসায় পঞ্চমুখ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর পবিত্র কুমার চক্রবর্তী। তিনি তাঁর বার্তায় বলেন, "আজকের এই রক্তদান এক মহতী উদ্যোগ, যা পুরুলিয়ার মানুষ যে বর্তমান গ্রীষ্মকালীন রক্ত সংকট, তার পাশে আমরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছে, এর জন্য আমি সাধুবাদ জানাই।"
ছাত্রছাত্রীদের এই বিপুল উৎসাহ দেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক থেকে শুরু করে অশিক্ষক কর্মীরাও রক্তদানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসেন। সব মিলিয়ে এদিন ৭০ জনেরও বেশি মানুষ রক্তদান করেন। রক্তদাতাদের সম্মান জানাতে এনএসএস সেলের পক্ষ থেকে প্রত্যেকের হাতে একটি শংসাপত্র ও একটি করে চারাগাছ তুলে দেওয়া হয়।
তবে এই শিবিরের সবচেয়ে নজরকাড়া দিক ছিল ছাত্রছাত্রীদের অদম্য ইচ্ছা ও দায়িত্ববোধ। ক্যাম্পাসে তখন বিভিন্ন বিভাগের ক্লাস এবং চতুর্থ সেমিস্টারের ইন্টার্নাল পরীক্ষা পুরোদমে চলছে। কিন্তু কোনো কিছুই তাদের এই মহৎ কাজ থেকে আটকাতে পারেনি। কেউ ক্লাস করে এসে রক্ত দিয়েছেন, আবার কেউ রক্ত দিয়েই সোজা ক্লাসে ছুটেছেন। এমনকি পরীক্ষার্থীরাও তাদের পরীক্ষা শেষ করেই হাসিমুখে যোগ দিয়েছেন এই রক্তদান উৎসবে। তীব্র গরম আর পরীক্ষার চাপের মধ্যেও মুমূর্ষু মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই স্পৃহা প্রমাণ করে দিল, সদিচ্ছা থাকলে যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিকেই জয় করা সম্ভব।