ব্লক

প্রবল বর্ষণে বরাবাজারে তলিয়ে গেলো বাইক, বরাত জোরে বাঁচলেন আরোহী

এই সেতু পার হতে গিয়ে এক বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরেন স্থানীয় বাসিন্দা ভীম প্রামাণিক। মোটর বাইক নিয়ে জলমগ্ন সেতু পার হওয়ার সময় নদীর প্রবল তোড়ে ভেসে যান তিনি। বহু দূর ভেসে যাওয়ার পর অতি কষ্টে সাঁতার কেটে নদীপাড়ে উঠতে পারলেও, তাঁর বাইকটি তলিয়ে যায় নদীর গভীরে।
প্রবল বর্ষণে বরাবাজারে তলিয়ে গেলো বাইক, বরাত জোরে বাঁচলেন আরোহী

 


নিজস্ব প্রতিনিধি, বরাবাজার :

নিম্নচাপের বর্ষণে ফুঁসে উঠেছে কুমারী নদী, আর তার প্রবল তোড়ে চরম বিপদের মুখে পড়েছে বরাবাজারের চন্দনপুর সেতু। দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকা এই সেতুর ওপর দিয়ে এখন বইছে বিপদসীমার ওপরের জল। তবুও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ এবং একাধিক যাত্রীবাহী বাস। মঙ্গলবারই এই সেতু পার হতে গিয়ে এক বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে অলৌকিকভাবে  বেঁচে ফেরেন স্থানীয় বাসিন্দা ভীম প্রামাণিক। মোটর বাইক নিয়ে জলমগ্ন সেতু পার হওয়ার সময় নদীর প্রবল তোড়ে ভেসে যান তিনি। বহু দূর ভেসে যাওয়ার পর অতি কষ্টে সাঁতার কেটে নদীপাড়ে উঠতে পারলেও, তাঁর বাইকটি তলিয়ে যায় নদীর গভীরে। ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে ভীম প্রামাণিক আক্ষেপের সুরে জানান, "বাইক নিয়ে সেতু পার হওয়ার সময় মাঝরাস্তায় জলের টানে গাড়িটি ভেসে যায়। বাইকসহ আমি তলিয়ে যাচ্ছিলাম। বহু দূর ভেসে যাওয়ার পর অনেক কষ্টে সাঁতার কেটে পাড়ে উঠি, না হলে আজ প্রাণটাই যেত। তবে বাইকটি এখনও জলের তলাতেই রয়েছে, খোঁজাখুঁজি চলছে।"

এলাকাবাসীদের অভিযোগ, বর্ষায় কুমারী নদীর ওপর চন্দনপুর গ্রামের এই ব্রিজের অবস্থা প্রতি বছরই একই রকম থাকে। অথচ এটি বরাবাজার ও তৎসংলগ্ন অঞ্চলের সাথে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। সেতুটির স্ল্যাব নষ্ট হয়ে গেছে এবং লোহার কাঠামোও জরাজীর্ণ, যার ফলে প্রতি বছরই একাধিক দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে।

চন্দনপুর সেতুর এই বেহাল দশা নিয়ে সরব হয়েছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বও। ভারতীয় জনতা পার্টির  বান্দোয়ান মণ্ডল-১ এর সভাপতি দিলীপ কুমার মাহাত এই পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনেছেন। তাঁর বক্তব্য, "কুকরিয়া থেকে বরাবাজার যাওয়ার এই রাস্তাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ ৩৫ বছরের বাম শাসন এবং গত ১৫ বছরের তৃণমূল সরকার কেউই এই সেতুর সঠিক সংস্কার করেনি। ব্রিজের স্ল্যাব নষ্ট হয়ে গেলেও কোনো মেরামত করা হয়নি।"

তিনি আরও জানান, জনমুখী প্রকল্পগুলোর পাশাপাশি এই সেতুর বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় বিধায়ক এবং ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অতি দ্রুত যাতে একটি নতুন ও নিরাপদ সেতু নির্মাণ করা যায়, সেই আবেদন জানানো হবে।