নিজস্ব প্রতিনিধি, বলরামপুর :
পুরুলিয়ার মুকুটে আরও একটি সোনালি পালক। রাষ্ট্রপতির সুবর্ণ পদক পেয়ে দেশজোড়া সম্মান অর্জন করলেন বলরামপুরের মেয়ে ডাঃ অনুশ্রী পাল। দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে এই সম্মান তুলে দেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা। নিউরোলজিতে ডি আর এন বি-র সর্বভারতীয় স্তরের সেরা হিসেবে তিনি প্রেসিডেন্টস গোল্ড মেডেল পান।
এবারের অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ডিপ্লোমা, ডিপ্লোম্যাট, ডক্টরেট ও বিশিষ্ট মেডেল বিভাগ মিলিয়ে মোট ১৩৭ জন চিকিৎসককে সম্মানিত করা হয়। পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিভিন্ন বিভাগে অংশ নিয়েছিলেন তিন জন ডি আর এন বি চিকিৎসক। তাঁদের মধ্যেই নিউরোলজি বিভাগে সেরার শিরোপা উঠে আসে অনুশ্রীর ঝুলিতে।
১৯৯১ সালের সেপ্টেম্বরে জন্ম অনুশ্রীর। বলরামপুরের সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা এই কৃতী চিকিৎসকের শিক্ষাজীবনের শুরু বাড়ির সামনের ছোট্ট স্কুল ‘বিবেকানন্দ শিশু নিকেতন’-এ। চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত সেখানেই পড়াশোনা। পরে লালীমতী বালিকা বিদ্যালয় হয়ে পুরুলিয়ার শান্তময়ী বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে বিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হন।
এরপর জয়েন্ট পরীক্ষায় সাফল্য পেয়ে আর জি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে এমবিবিএস এবং কলকাতা মেডিকেল কলেজ থেকে জেনারেল মেডিসিনে এমডি সম্পূর্ণ করেন। পরে কলকাতার ইন্সটিটিউট অফ নিউরোসায়েন্স থেকে নিউরোলজিতে ডি আর এন বি ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে সেখানেই অ্যাসোসিয়েট কনসালট্যান্ট হিসেবে কর্মরত তিনি।
অনুশ্রীর সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘ অধ্যবসায়। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মাধ্যমিক পর্যন্ত তাঁর কোনও প্রাইভেট টিউটর ছিল না। স্কুলের পড়াশোনার বাইরে অধিকাংশ শিক্ষাই এসেছে অধ্যাপক পিতা ড. অমৃত পাল এবং মায়ের কাছ থেকে। পরবর্তী সময়ে চিকিৎসক স্বামী ও শিক্ষিত শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের সহযোগিতাও উচ্চশিক্ষার পথে তাঁকে এগিয়ে দিয়েছে।
রাষ্ট্রপতির সোনার পদক পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই খুশির হাওয়া বলরামপুরে। গর্বিত পরিবার, আত্মীয়স্বজন থেকে শুরু করে গোটা এলাকার মানুষ। তাঁদের কথায়, অনুশ্রীর এই সাফল্য শুধু পরিবারের নয়, গোটা বলরামপুর তথা পুরুলিয়ার গর্ব।