নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঘমুন্ডি:
সরকারি খাতায় উন্নয়নের একশো একটা খতিয়ান। অথচ বাস্তব বলছে ঠিক উল্টো কথা। অযোধ্যা পাহাড়ের কোলে মাত্র ২৫-৩০টি আদিবাসী পরিবারের বাস গন্ধডি গ্রামে। কিন্তু আজও সেখানে পৌঁছায়নি আধুনিক সভ্যতার নূন্যতম দুই জিনিস- এক ফোঁটা বিশুদ্ধ পানীয় জল আর একটা পাকা রাস্তা। পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডি থানার বুড়দা কালিমাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের তুঙ্গেড়ি এলাকার এই গ্রামটি যেন আজও এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপ।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, দীর্ঘ কয়েক দশকের বঞ্চনার পর সম্প্রতি গ্রামে একটি পাকা রাস্তার কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু এক অজ্ঞাত কারণে মাঝপথেই থমকে যায় সেই নির্মাণ। বর্তমানে অর্ধেক হয়ে পড়ে থাকা সেই রাস্তা যেন গ্রামবাসীদের জন্য আরও বড় ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ঘাসনি মুড়া ও পল্টু সিং মুড়া ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানান, "রাস্তা তৈরি হবে বলে আমাদের আশা দেখানো হয়েছিল। এখন কাজ বন্ধ। ভাঙাচোরা রাস্তা দিয়ে গর্ভবতী মহিলা বা কোনো গুরুতর অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে কালঘাম ছুটে যায়। ছেলেমেয়েরা স্কুলে যাওয়ার ভরসা পায় না।"
শুধু যাতায়াতই নয়, গন্ধডি গ্রামের সবচেয়ে বড় সংকট এখন পানীয় জল। এলাকায় জলের সমস্যা মেটাতে সরকারি উদ্যোগে 'বলকাপ' খনন করা হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু সঠিক পরিকল্পনার অভাবে তা থেকে এক ফোঁটা জলও ওপরে ওঠেনি। ফলে প্রকল্পের পাইপ এখন শুধুই শোভাবর্ধন করছে। বাধ্য হয়ে এই তীব্র গরমেও গ্রামবাসীদের গ্রামের একমাত্র কুয়োর অস্বাস্থ্যকর জলের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
গ্রামের বাসিন্দা উষা লায়া জানান," পানীয় জলের কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিন তাঁদের চরম সংকটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। প্রশাসনের দরজায় বার বার কড়া নেড়েও কোনো লাভ হয়নি"।
স্বাধীনতার এত বছর পরও কেন এক চিলতে পাকা রাস্তা আর পানীয় জলের মতো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকবে একটি গোটা গ্রাম? এই প্রশ্ন তুলে এবার সরব হয়েছেন এলাকার সমস্ত আদিবাসী পরিবার। গ্রামবাসীদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি— অবিলম্বে যদি রাস্তার কাজ পুনরায় শুরু না করা হয় এবং পানীয় জলের স্থায়ী সমাধান না মেলে, তবে আগামীদিনে তাঁরা আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।