ক্রাইম ব্লক

অপহরণের ২৪ ঘন্টার মধ্যেই অপহৃত যুবককে ওড়িশা থেকে উদ্ধার করল পুরুলিয়া পুলিশ

আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিবাদের জেরে পুরুলিয়া থেকে অপহৃত এক ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রকে ভিন রাজ্য থেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করল পুলিশ। পুরুলিয়া জেলা পুলিশ এবং ওড়িশা পুলিশের এক যৌথ অভিযানে ওড়িশার খণ্ডগিরি থানা এলাকা থেকে ওই ছাত্রকে উদ্ধার করা হয়।
অপহরণের ২৪ ঘন্টার মধ্যেই অপহৃত যুবককে ওড়িশা থেকে উদ্ধার করল পুরুলিয়া পুলিশ

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:


আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিবাদের জেরে পুরুলিয়া থেকে অপহৃত এক ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রকে ভিন রাজ্য থেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করল পুলিশ। পুরুলিয়া জেলা পুলিশ এবং ওড়িশা পুলিশের এক যৌথ  অভিযানে ওড়িশার খণ্ডগিরি থানা এলাকা থেকে ওই ছাত্রকে উদ্ধার করা হয়। অপহরণের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশের এই সাফল্যে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে ছাত্রের পরিবার।


পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অপহৃত ছাত্রটি ভুবনেশ্বরের আইটিইআর  কলেজের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পড়ুয়া। বুধবার  রাত নাগাদ সুইসা আউটপোস্টের অন্তর্গত ডাংডুং গ্রামের বাসিন্দা লালহিকান্ত মাহাতো বাঘমুণ্ডি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, পুরুলিয়া শহরের দুলমি এলাকা থেকে তাঁর ছেলেকে একটি চার চাকার গাড়িতে করে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আর্থিক কোনো লেনদেন নিয়ে বিবাদের জেরে তাঁরই ৪-৫ জন সহপাঠী এই কাণ্ড ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান।

অভিযোগ পাওয়া মাত্রই বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে তদন্তে নামে বাঘমুণ্ডি থানার পুলিশ। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত একটি 'মিসিং ডায়েরি' রুজু করা হয় এবং জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তাদের নির্দেশে গঠন করা হয় একটি বিশেষ তদন্তকারী দল।

তদন্তে নেমে পুলিশ আধিকারিকরা কাজে লাগান প্রযুক্তিগত নজরদারিকে। সঙ্গে পুলিশ সোর্সের জাল বিছিয়ে জানতে পারেন, অপহরণকারী সহপাঠীরা অপহৃতকে নিয়ে জামশেদপুর রুট হয়ে ওড়িশার দিকে চম্পট দিয়েছে।

অপরাধীরা যাতে ওড়িশায় গা ঢাকা দিতে না পারে, তার জন্য তৎক্ষণাৎ ওড়িশা পুলিশের শীর্ষ মহলের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে পুরুলিয়া জেলা পুলিশ। তৈরি করা হয় একটি যৌথ ব্লু-প্রিন্ট।

ওড়িশা পুলিশের সহযোগিতায় খণ্ডগিরি থানা এলাকার একটি গোপন আস্তানায় হানা দেয় বিশেষ দল। সেখান থেকেই ওই ছাত্রকে সম্পূর্ণ অক্ষত ও নিরাপদ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। 
সমস্ত প্রয়োজনীয় আইনি এবং চিকিৎসা সম্পন্ন করার পর, বৃহস্পতিবার পুলিশি তত্ত্বাবধানে ওই ছাত্রকে তাঁর বাবার হাতে নিরাপদে তুলে দেওয়া হয়।ছেলেকে ফিরে পেয়ে জেলা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে পরিবারটি।অন্যদিকে, অভিযুক্ত সহপাঠীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ। আর্থিক লেনদেনের পেছনে অন্য কোনো বড় রহস্য রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।