নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঘমুন্ডি:
নির্ভরযোগ্য সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে মোটরসাইকেল চুরি চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করল বাঘমুণ্ডি থানার পুলিশ। ধৃতদের জেরা করে কোটশিলা এলাকা থেকে উদ্ধার হয়েছে ১১টি চোরাই মোটরসাইকেল। পুলিশের দাবি, এই চক্রের সঙ্গে আরও অনেকে জড়িত থাকতে পারে। সেই সূত্র ধরেই তদন্ত এগোচ্ছে। গত ২৮ তারিখ বাঘমুন্ডির কালিমাটি হাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে দু'জনকে আটক করা হয়। ঝালদার বাঁধাঘাটের বাসিন্দা অজয় কালিন্দি এবং কোটশিলা থানার কানুডি গ্রামের বাসিন্দা গৌতম কুমারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মোটরসাইকেল চুরি চক্রের হদিশ পায় পুলিশ । পুলিশ জানতে পারে , চুরি করা মোটরসাইকেলগুলি কোটশিলা থানার কোচাহাতু গ্রামের বাসিন্দা অর্জুন কুমারের কাছে বিক্রি করা হতো। সেই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অর্জুনকেও আটক করে পুলিশ। পরে একটি নির্দিষ্ট মামলায় তিন জনকেই গ্রেফতার করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অভিযান) রসপ্রীত সিং বলেন, "ওরা মোটরসাইকেল চুরির সঙ্গে যুক্ত। আরও তদন্তে আমরা জানতে পারি, তারা চুরি করা বাইক অর্জুন কুমারের কাছে বিক্রি করত। পরে অভিযান চালিয়ে অর্জুন কুমারকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তে জানা যায়, সে মিডলম্যান হিসেবে কাজ করত। অজয় ও গৌতমের কাছ থেকে চোরাই বাইক কিনে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করত। এরপর তিনজনকেই বাঘমুণ্ডি থানার গ্রেফতার করা হয় এবং আদালত তাদের পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজত মঞ্জুর করে।”
তিনি আরও বলেন, "ধৃতদের লিডিং স্টেটমেন্টের ভিত্তিতে ২৯ মে মোট ১১টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। আমরা আরও বাইক উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছি এবং প্রকৃত মালিকদের চিহ্নিত করে তাদের হাতে বাইক ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।"
পুলিশের অনুমান, দীর্ঘদিন ধরে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে সেগুলি কম দামে বিক্রির একটি চক্র সক্রিয় ছিল। উদ্ধার হওয়া বাইকগুলির মালিকদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি চক্রের সঙ্গে যুক্ত অন্যদের খোঁজেও তল্লাশি চলছে। আরও চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধারের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই লক্ষ্যেই জোরদার করা হয়েছে পুলিশি তৎপরতা।