নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
মহিলাদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বন ও যাতায়াতের স্বাধীনতাকে আরও একধাপ এগিয়ে দিতে রাজ্যে শুরু হলো ঐতিহাসিক এক অধ্যায়। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রতিশ্রুতি মতো ১ জুন, সোমবার থেকে রাজ্যজুড়ে চালু হলো মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে সরকারি বাস পরিষেবা। প্রথম দিনেই এই পরিষেবাকে কেন্দ্র করে পুরুলিয়ার সরকারি বাসস্ট্যান্ডে দেখা গেল উপচে পড়া ভিড়। টিকিট কাউন্টার থেকে বিনামূল্যে টিকিট সংগ্রহ করে হাসিমুখে বাসে উঠতে দেখা যায় জেলার দূর-দূরান্ত থেকে আসা মহিলাদের। প্রশাসনের দাবি, এই উদ্যোগ কেবল যাতায়াত সহজ করবে না, বরং গ্রামীণ মহিলাদের কর্মসংস্থান ও শিক্ষার পরিধিকেও প্রসারিত করবে।
পরিষেবার প্রথম দিনেই বাস্তব প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে এবং যাত্রীদের উৎসাহ বাড়াতে বাস ডিপো পরিদর্শনে আসেন জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।
মানবাজারের বিধায়ক ময়না মুর্মু বলেন, "কেবল একটি নিখরচায় ভ্রমণ প্রকল্প নয়, এটি আমাদের মা-বোনেদের আত্মনির্ভর করে তোলার এক মহৎ প্রয়াস। আমাদের সংস্কৃতিতে মাতৃশক্তিকে সর্বোচ্চ স্থান দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর 'গ্যারান্টি' এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আন্তরিক সদিচ্ছায় আজ এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলো। রাজ্যের নারীরা যাতে আরও নিরাপদে, সসম্মানে এবং স্বাধীনভাবে নিজেদের কাজের সূত্রে বাইরে বেরোতে পারেন, সেটাই আমাদের সরকারের মূল লক্ষ্য। আমি দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন নিগম-সহ সমস্ত সরকারি বাস কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ রাখব, পরিষেবার সময়ানুবর্তিতা যেন কঠোরভাবে বজায় রাখা হয়, যাতে মহিলারা এর শতভাগ সুবিধা পান।"
বাস যাত্রী ভারতী হাঁসদা বলেন, "আমরা যারা প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে যাতায়াত করি, তাদের প্রতিদিনের আয়ের একটা বড় অংশ বাস ভাড়াতেই চলে যেত। আজ কাউন্টারে এসে যখন শুনলাম টিকিট কাটতে কোনো টাকা লাগবে না, তখন সত্যিই খুব আনন্দ হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে আমাদের মতো সাধারণ ঘরের মেয়েদের যাতায়াত অনেক সহজ হয়ে গেল। ঘরের টাকা বাঁচবে, আমরা স্বাধীনভাবে নিজের কাজে যাতায়াত করতে পারব। সরকারকে অনেক ধন্যবাদ।"
পুরুলিয়া এসবিএসটিসি ডিপো ইনচার্জ সুদীপ দে বলেন, "সরকারি নির্দেশিকা পাওয়ার পর থেকেই আমরা ডিপোর পক্ষ থেকে সমস্ত প্রস্তুতি সেরে রেখেছিলাম। আজ সকাল থেকেই মহিলাদের জন্য বিশেষ কাউন্টারের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেখান থেকে 'জিরো ভ্যালু' টিকিট দেওয়া হচ্ছে। প্রথম দিনে যাত্রীদের ভিড় বেশ ভালোই ছিল। আমাদের কর্মীরা তৎপরতার সাথে কাজ করছেন যাতে কোনো মহিলার টিকিট পেতে বা বাসে উঠতে সমস্যা না হয়। আগামী দিনে বাসের সংখ্যা এবং পরিষেবার মান আরও উন্নত করতে আমরা দায়বদ্ধ।"