নিজস্ব প্রতিনিধি, হুড়া:
বুলডোজার চলল তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে। ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল তৃণমূলের অফিস। না, প্রশাসন নয়— তৃণমূলের অফিস ভাঙল তৃণমূলই। বনদপ্তরের জমিতে অবৈধভাবে নির্মিত দলীয় কার্যালয় সরানোর নির্দেশ জারি হতেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে নিজেরাই বুলডোজার চালিয়ে কাঠামো গুঁড়িয়ে দিলেন দলের কর্মীরা। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার পুরুলিয়া-বাঁকুড়া জাতীয় সড়কের ধারে হুড়া ব্লকের জবররা অঞ্চলের লক্ষণপুর এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, তৃণমূল ক্ষমতায় থাকাকালীন বনদপ্তরের জমি দখল করে ওই দলীয় কার্যালয় তৈরি করা হয়েছিল। সেই সময় বিজেপির পক্ষ থেকে একাধিক বার অভিযোগ জানানো হলেও প্রশাসনিক স্তরে কোনও পদক্ষেপ হয়নি বলে অভিযোগ। তবে রাজনৈতিক পালাবদলের পর পরিস্থিতি বদলায়।
বিজেপি মন্ডল সভাপতি অনন্ত বাউরী বলেন, "২০২২ সালে আমরা প্রথম আপত্তি জানিয়েছিলাম। এটি আমার নিজস্ব সংসদ এলাকা, তাই আমরা হুড়া অখণ্ড মন্ডল বিজেপি-র পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট জায়গায় অভিযোগটি করি।
এই বিষয়ে বিএলআরও অফিস, বিডিও এবং ফরেস্ট অফিসেও অভিযোগ জানিয়েছিলাম, কিন্তু সে সময় কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।"
তিনি আরও বলেন, "সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথেই আমরা প্রশাসনকে বিষয়টি আবার মনে করিয়ে দিই। এর ফলে প্রশাসন অভিযোগটির সঠিক তদন্ত করে উপযুক্ত বিচার করেছে। এই কারণে প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই। যেখানে যেখানে এই ধরণের অবৈধ নির্মাণ রয়েছে, ভারতীয় জনতা পার্টির ডবল ইঞ্জিনের সরকার সেই সব জায়গায় একইভাবে সঠিক পদক্ষেপ নেবে।"
তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন অঞ্চল সভাপতি দেবেন্দ্রনাথ মাহাতো বলেন, 'জবররা অঞ্চলের দলীয় কার্যালয় আমরা নিজেরাই ভেঙেছি।
রেঞ্জ অফিস থেকে একটি নোটিশ দেওয়া হয়েছিল, যেখানে বলা হয়েছিল যে ২ দিনের মধ্যে আমাদের সব জিনিসপত্র সরিয়ে নিতে হবে, অন্যথায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যেহেতু সরকার একটি নিয়ম করেছে, তাই আমরা আইন নিজের হাতে না তুলে এবং কোনো বেআইনি কাজ না করে স্বেচ্ছায় কার্যালয়টি ভেঙে নিজেদের জিনিসপত্র সরিয়ে নিয়েছি।"
তিনি আরও বলেন, জায়গাটি বন দপ্তরের অধীনে ছিল। কার্যালয়টি যখন তৈরি করা হয়েছিল, তখন তাঁরা জানতেন না যে এটি বন দপ্তরের জায়গা। সেই সময় কোনো সরকারি বিভাগ থেকে বাধাও দেওয়া হয়নি। তাঁরা জায়গাটিকে সরকারি খাস জমি মনে করে কার্যালয়টি নির্মাণ করেছিলেন।
বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি মাসের ৪ তারিখ সংশ্লিষ্ট কার্যালয়টিকে অবৈধ নির্মাণ হিসেবে চিহ্নিত করে দু'দিনের মধ্যে তা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। নোটিসে জানানো হয়েছিল, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণ না সরালে বনদপ্তর নিজেই উচ্ছেদ অভিযান চালাবে। কিন্তু সেই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগেই উদ্যোগী হন তৃণমূলের স্থানীয় কর্মীরা। বুলডোজার এনে দলীয় কার্যালয় ভেঙে ফেলা হয়। পরে ধ্বংসাবশেষও সরিয়ে দেওয়া হয় এলাকা থেকে।
ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপির দাবি, ক্ষমতায় থাকাকালীন সরকারি জমি দখল করে রাখা হয়েছিল। এখন প্রশাসনের কড়া অবস্থানের জেরে নিজেরাই সেই নির্মাণ ভাঙতে বাধ্য হয়েছে তৃণমূল। অন্যদিকে তৃণমূলের বক্তব্য, বনদপ্তরের নির্দেশ মেনেই কাঠামো সরানো হয়েছে।