সুইটি চন্দ্র,আগুইটাঁড়:
দুই নদীর মাঝে জন্ম বলে নাম দেওয়া হয়েছিল নদীয়ারচাঁদ। আর সেই ঘরের ছেলে মন্ত্রী হওয়ায় উৎফুল্ল তাঁর জন্মভূমি আগুইটাঁড়।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী নদীয়ারচাঁদ বাউরী বলেন, "২০২৬-এর নির্বাচনে পাড়া বিধানসভার মানুষ আমাকে নির্বাচিত করেছে। প্রথমে পাড়া বিধানসভার সবাইকে আমি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করি, চরণে কোটি কোটি প্রণাম জানাই। আজকে পাড়া বিধানসভার মানুষ আমাকে নির্বাচিত করে পাঠিয়েছে বিধানসভায়। আর তার বদৌলতে আজ আমি মন্ত্রী। আজ পুরুলিয়া থেকে আমি একমাত্র মন্ত্রী রূপে শপথ নিয়েছি। পুরুলিয়াবাসীকে এবং বঙ্গবাসীকে আশ্বাস দিতে চাই যে, বিগত ১৫ বছরে তৃণমূল সরকার যা যা করতে পারেনি, আমরা তা করে দেখাবো। মানুষের সেবা, মানুষের কাজ, মানুষের পরিষেবা এটাই আমাদের ধর্ম হবে"।
যাত্রাটা মোটেও সহজ ছিল না নদীয়ারচাঁদের। মা তরী বাউরী যখন চলে যান, সেই ২০০০ সালে তখনও প্রতিষ্ঠিত হননি তিনি। বাবা বাঁকু বাউরী ভোজুডি কোল ওয়াশারিতে কনভেয়ার অপারেটর ছিলেন। ২০০২ সালে তিনিও যখন চলে যান, সংসার অকূল পাথারে পড়ে। ৪ ভাই ২ বোনের মধ্যে নদীয়ারচাঁদ সেজো। সংসারের হাল ধরেন দাদা প্রতাপ। ২০০৪ সালে প্রাথমিক শিক্ষকতাতে নিযুক্ত হন সায়েন্স গ্র্যাজুয়েট নদীয়ারচাঁদ। ততদিন ভাই সহ সংসারকে আগলে রেখেছিলেন প্রতাপ বাবু। নদীয়ারচাঁদ বাউরীর দাদা প্রতাপ বাউরী বলেন, "সোমবার লোকভবনে ভাইয়ের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা ছিলো, কিন্তু বিশেষ কাজের জন্য যেতে পারলাম না"।
২০০৮ সালে বিয়ে করেন নদীয়ারচাঁদ। ছেলে জেকে কলেজে ইংরেজি অনার্স পড়ছে, দুই মেয়ে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে। ২০১৬ সাল থেকে বিজেপির সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত তিনি। সেবার পরাজিত হন তৃণমূলের উমাপদ বাউরীর কাছে। আর ২০২১ এ সেই উমাপদকেই হারিয়ে দেন। তবে ২০২৬ এর জয় একটা আলাদা আনন্দের বাতাবরণ তৈরি করেছে এলাকায়। ।
মন্ত্রীর ভাগ্নে ফটিক বাউরী বলেন, "আশাটা এতটা ছিল না। কিন্তু হয়েছে বলে ভালো লাগছে।"
মন্ত্রীর ভাইপো রাকেশ বাউরী বলেন, "আমাদের খুবই ভালো লাগছে যে কাকু মন্ত্রী হয়েছেন। আমরা চাইবো যাতে আরো ভালো ভালো কাজ করেন। আমাদের জেলাতে অনেক কাজ বাকি আছে, চাইবো ওইগুলোর দিকে ধ্যান দিন কাকু। পশ্চিমবঙ্গটাকে যাতে আরও ভালো করে তুলতে পারেন, সেদিকে আশা করব।"
মন্ত্রীর ভাইপোর স্ত্রী সোমা বাউরী বলেন,
"আমাদের খুব গর্ব হচ্ছে যে আমাদের কাকু মন্ত্রী হয়েছেন। এটাই আমাদের গর্ব, সবার খুব আনন্দ হচ্ছে।"
পড়াডি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নদীয়ারচাঁদ একেবারে মাটির সঙ্গে মিশে থাকা মানুষ। সোমবার মন্ত্রীত্বের আনন্দে বাড়িতে দুপুরের খাবারে মিষ্টি ছাড়াও ছিলো কলমি শাক, ভাত, অড়হর ডাল, চারাপোনা আর চাটনি।
মন্ত্রীর ঘর কেমন হয়? চোখধাঁধানো অট্টালিকা দেখতেই তো অভ্যস্ত মানুষ। কিন্তু রঘুনাথপুর ২ নম্বর ব্লকের চেলিয়ামা গ্রাম পঞ্চায়েতের আগুইটাঁড় গ্রামে এলে সে ধারণা পাল্টে যাবে। এই গ্রামেরই ছেলে পাড়া বিধানসভার দুবারের বিধায়ক নদীয়ারচাঁদ বাউরী হয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী। তার বাড়ি অট্টালিকা নয়। আর পাঁচজন সাধারণ মানুষের মতো। কোঠা ঘরে থাকেন নদীয়ারচাঁদরা। আছে গোয়ালঘর, আছে পোর্টেবল রঙিন টিভি। এলাকায় তার পরিচিতি মাস্টারদা হিসেবে। পড়াডি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নদীয়ার চাঁদ। এলাকা আজ উৎফুল্ল। পুরুলিয়ার প্রত্যন্ত গ্রামের ছেলে আজ রাজ্যের মন্ত্রী! এ কী কম আনন্দের বিষয়?