নিজস্ব প্রতিনিধি, মানবাজার:
সরকারি স্কুলের পরিকাঠামো বদলে ফেলে গ্রামীণ পড়ুয়াদের স্কুলমুখী করতে এক অভিনব উদ্যোগ নিল ‘শ্রীমদ রাজচন্দ্র মিশন ধরমপুর’, (লাভ অ্যান্ড কেয়ার)। মানবাজার-১ সার্কেলের অন্তর্গত তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয় পুটকডিহ, ডলডেরিয়া এবং বাসুডিহর এর সামগ্রিক উন্নয়নের দায়িত্ব নিতে চলেছে এই সংস্থা। শুধু বাহ্যিক রূপটানই নয়, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মান বাড়াতে ইংরেজি শিক্ষক নিয়োগের মতো বড় পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে মিশনের তরফে।
মিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খুব শীঘ্রই এই তিনটি বিদ্যালয়ে পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ শুরু হবে। এই প্রকল্পের মূল আকর্ষণগুলি হলো,
প্রথমত, বিদ্যালয়গুলির ভবন সম্পূর্ণ নতুন রঙে সাজিয়ে তোলা হবে। দেওয়ালে আঁকা হবে শিক্ষামূলক টিএলএম চিত্র, যা খুদে পড়ুয়াদের খেলার ছলে শিখতে সাহায্য করবে।
দ্বিতীয়ত,পড়ুয়াদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য দেওয়া হবে আধুনিক শিক্ষামূলক ও ক্রীড়াসামগ্রী।
তৃতীয়ত,প্রতিটি বিদ্যালয়ে তৈরি করা হবে একটি করে ‘কিচেন গার্ডেন’ বা রান্নাঘরের বাগান। এখান থেকে একদিকে যেমন মিড-ডে মিলের জন্য টাটকা সবজি মিলবে, তেমনই পড়ুয়ারাও প্রকৃতির সংস্পর্শে আসতে পারবে।
চতুর্থ,গ্রামীণ স্তরে ইংরেজি ভীতি কাটাতে মিশন একটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনটি বিদ্যালয়ের জন্যই একজন ইংরেজি শিক্ষকের মাসিক বেতনের সম্পূর্ণ দায়িত্ব বহন করবে তারা।
এই উন্নয়নমূলক কাজ শুরুর ঠিক পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে মঙ্গলবার বিদ্যালয়গুলি পরিদর্শন করে মিশনের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। এই পরিদর্শক দলে উপস্থিত ছিলেন নেহাল দামানি, জয়েশ বাখদা, সুমিত দেশাই, নিকেশ শেঠ, বিনোদ দেশাই, নেহা শেঠ, দেবাং শেঠ, আদিত্য শাহ এবং নেহা দেশাই। তাঁরা শিক্ষক ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে কাজের রূপরেখা চূড়ান্ত করেন।
মিশন কর্তৃপক্ষ জানান, "সরকারি স্কুলগুলির এই রূপান্তর গ্রামীণ শিক্ষা ব্যবস্থার খরা কাটাতে এক নতুন দিশা দেখাবে।"
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, শিক্ষা দপ্তর এবং সমস্ত সরকারি আধিকারিকরা যেভাবে ক্রমাগত সহযোগিতা করে চলেছেন, তার জন্য মিশনের পক্ষ থেকে তাঁদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে।