টুকরো খবর ব্লক শহর

জেলার বিভিন্ন প্রান্তে মারাত্মক বজ্রপাত, মৃত ২, জখম অনেকে

মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত আচমকা ঝড়-বৃষ্টির সাথে একের পর এক বজ্রাঘাতে কার্যত হাহাকার পড়ে গেল জেলা জুড়ে। চার পৃথক জায়গায় বজ্রপাতের জেরে প্রাণ হারালেন ২ জন। গুরুতর জখম আরও ৮ জন।
জেলার বিভিন্ন প্রান্তে মারাত্মক বজ্রপাত, মৃত ২, জখম অনেকে

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:

গ্রীষ্মের দাবদাহ কাটিয়ে স্বস্তির ঝড়-বৃষ্টি নামলেও পুরুলিয়া জেলায় তা ডেকে আনল চরম বিপর্যয়। মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত আচমকা ঝড়-বৃষ্টির সাথে একের পর এক বজ্রাঘাতে কার্যত হাহাকার পড়ে গেল জেলা জুড়ে। চার পৃথক জায়গায় বজ্রপাতের জেরে প্রাণ হারালেন ২ জন। গুরুতর জখম আরও ৮  জন। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সবচেয়ে বড় বিপর্যয়টি ঘটেছে জয়পুর থানার কুসুমটিকরি গ্রামে। বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে ঘরের ভেতরেই ছিলেন পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু আচমকা বাড়ির ওপর বজ্রপাত হলে একই পরিবারের পাঁচজন গুরুতর জখম হন। ৫৪ বছরের প্রতিমা মাহাতোকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা  মৃত বলে ঘোষণা করেন। ওই একই ঘর থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন ৪০ বছর বয়সী ধলেশ্বরী মাহাতো,  শুভেন্দু মাহাতো ও
১০ বছরের দুই বালিকা  সোমা মাহাতো  ও সন্তোষী মাহাতো।

অন্যদিকে ঝড়-বৃষ্টির সময় নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে গিয়েও শেষরক্ষা হলো না ৪৮ বছরের নারায়নপুর গ্রামের বাসিন্দা  কেশব মাহাতোর । জয়পুর থানার ফরেস্ট মোড়ের কাছে বজ্রাঘাতের শিকার হন তিনি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাকেও মৃত ঘোষণা করা হয়। অন্যদিকে, চাষের কাজের তদারকিতে থাকা এই থানারই পিঁপড়াট্যাড় গ্রামের বাসিন্দা ৪৯ বছরের সত্যবান মাহাতো সহ আরও এক ব্যক্তি বজ্রাঘাতে গুরুতর জখম হয়ে বর্তমানে পুরুলিয়া মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন।

অন্য একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে বরাবাজার থানার গুসাইডি গ্রামে। জাম কুড়োতে ঘর থেকে বের হয়েছিল দুই নাবালিকা ১২ বছরের কবিতা মাহাতো ও ১০ বছরের সুচিত্রা মাহাতো । আচমকা মাঠের মাঝে বজ্রপাত হলে দুজনেই ঝলসে যায়। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

গ্রামাঞ্চলের পাশাপাশি পুরুলিয়া শহর এলাকাতেও বজ্রপাতের দাপট দেখা গেছে। পুরুলিয়া শহরের  দুলমী নডিহার বাসিন্দা ২৮ বছরের যুবক বিনোদ দেব  বজ্রাঘাতে আহত হন। তাকেও পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলেও, চিকিৎসকেরা তাদের স্থিতিশীল করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন।