দেবীলাল মাহাতো ,আড়শা:
প্রাচীন ও বর্ধিষ্ণু গ্রাম হলেও দুর্গাপুজো হতো না। তাই পুজোর দিনগুলিতে মন খারাপ হয়ে যেত গ্রামের সকলের। পুজো দেখতে যেতে হতো অন্য গ্রামে। তাই দীর্ঘদিনের আক্ষেপ ছিল গ্রামবাসীদের মনে। কিন্তু এক রাতের একটি অলৌকিক ঘটনার পর বদলে যায় সবকিছু। আর তারপর থেকেই ৫ বছর আগে আড়শা ব্লকের বেলডি গ্রামে শুরু হয় দুর্গাপুজো। এখন আর পুজো দেখতে অন্য গ্রামে যেতে হয় না। ঢাকের তালে, নতুন জামার আনন্দে পুজোর দিনগুলিতে আনন্দে মেতে ওঠেন বেলডি গ্রামের বাসিন্দারা।
কেমন সেই অলৌকিক ঘটনা ? সময়টা ২০২০ সাল। কাটেনি করোনা অতিমারির রেশ। পুজোর মাসখানেক আগে শিবমন্দিরে বৈঠকে বসেছিলেন গ্রামের যুবক থেকে প্রবীণরা। আলোচনা চলছিল মায়ের আরাধনা নিয়ে, গ্রামে কীভাবে দুর্গাপুজো শুরু করা যায়। সেই বৈঠকেই ঘটে যায় সেই অলৌকিক ঘটনা। পুজোর আয়োজনের কথা শুনে কেউ একজন বৈঠকে ১০০ টাকা ফেলে দিয়েছিলেন। হঠাৎ বৈঠকের মধ্যে পড়ে থাকা ১০০ টাকা নজরে আসতেই সবাই জিজ্ঞাসা করতে শুরু করেন, টাকাটা কে দিল? ভিড়ের মধ্যে থেকে একটাই উত্তর ভেসে আসে - গোপাল।
কিন্তু কে এই গোপাল? তারপর অনেক খোঁজ করেও কেউ তার হদিশ পাননি। গ্রামবাসীদের বিশ্বাস, স্বয়ং মা-ই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। ব্যস, তখন থেকেই শুরু হয়ে যায় মন্দির গড়ার কাজ। আর তারপর ২০২১ সালে সেই মন্দিরেই প্রথমবার শুরু হল বেলডি গ্রামের দুর্গাপুজো।
পুজো কমিটির সদস্য গৌর কুমার বলেন, "এলাকাবাসীর মিটিং চলাকালীন গোপাল নামের এক ব্যক্তির দেওয়া ১০০ টাকার অনুদান এবং পরবর্তীকালে সবার সহযোগিতায় এই দুর্গামন্দির তৈরির কাজ শুরু হয়। দেখতে দেখতে এ বছর এই পুজো ৫ বছরে পদার্পণ করল। প্রায় ৪ লাখ টাকা বাজেটের এই পুজো উপলক্ষে একটি যাত্রা ও ছাদের ভেতরে একটি বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে"।
গ্রামবাসীদের বিশ্বাস, সেদিন ওই ১০০ টাকা কোনও সাধারণ মানুষ দেননি। ওই টাকাই ছিল মায়ের আগমনের ইঙ্গিত। যাকে খুঁজতে গিয়েও খুঁজে পাওয়া যায়নি, সেই অচেনা গোপালই যেন পথ দেখিয়ে দিয়েছিলেন। তারপর আর দেরি করেননিম গ্রামবাসীরা। সবাই মিলে হাতে হাত লাগিয়ে গড়ে তুললেন মায়ের মন্দির। আর ২০২১ সালে, সেই মন্দিরেই প্রথমবার ঢাকের বোলে, শঙ্খধ্বনিতে শুরু হল বেলডি গ্রামের দুর্গাপুজো। যে গ্রামে একসময় পুজোর আলো জ্বলত না, আজ সেই গ্রামই আলোয় আলোয় সেজে ওঠে। পাঁচ বছর ধরে সেই ধারাই বয়ে চলেছে। করোনা কালের সেই ১০০ টাকার গল্প আজও লোকমুখে ফেরে বেলডি গ্রামে, বিশ্বাস আর ভক্তির প্রতীক হয়ে।