স্বাস্থ্য ব্লক শহর

মেডিকেল কলেজে বিরাট বদল, হাই টেক পরিষেবা জানালেন পুরুলিয়ার বিধায়ক

বিগত সরকারের সমালোচনা করে বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায় বলেন, "আমি যতটুকু পারছি চেষ্টা করছি। দেবেন মাহাতো হাসপাতালটি এতদিন নামেই মেডিক্যাল কলেজ ছিল। তৃণমূলের জমানায় এর পরিকাঠামো উন্নয়নে কোনও বাস্তবসম্মত কাজই হয়নি। এবার আমরা সেই ছবিটা বদলাতে বদ্ধপরিকর।"
মেডিকেল কলেজে বিরাট বদল, হাই টেক পরিষেবা জানালেন পুরুলিয়ার বিধায়ক

 

সুইটি চন্দ্র , পুরুলিয়া:


পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের বদল এখন সময়ের অপেক্ষা। সম্প্রতি কলকাতায় রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রধান সচিব স্বরূপনারায়ণ নিগমের উপস্থিতিতে একটি হাই-প্রোফাইল বৈঠক সম্পন্ন হলো। হাসপাতালের পরিকাঠামোকে আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নীত করতে এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি মেটাতে এই বৈঠকে একগুচ্ছ যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ সব্যসাচী দাস, মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট তথা ভাইস প্রিন্সিপাল সুকোমল বিষয়ী এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার ঐন্দ্রিলা দত্ত। হাসপাতালের সামগ্রিক আধুনিকীকরণের রূপরেখা তৈরি করতে পুরুলিয়ার বিজেপি বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায় এই বৈঠকের নেতৃত্ব দেন।

মেডিক্যাল কলেজটিতে খুব শীঘ্রই চালু হতে চলেছে একাধিক হাই-টেক চিকিৎসাসেবা, যা জেলার স্বাস্থ্যক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।

১.হাসপাতালে দ্রুত চালু করা হচ্ছে ইকোকার্ডিওগ্রাফি পরিষেবা। এই নিরাপদ ও ব্যথাহীন পরীক্ষার মাধ্যমে হৃদপিণ্ডের আকার, আকৃতি, পাম্প করার ক্ষমতা এবং ভালভগুলোর কার্যকারিতা নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে, যা হার্ট চিকিৎসায় একটি বড় মাইলফলক।

২.রোগীদের সুবিধার্থে দ্রুত এমআরআই পরিষেবা চালু করার বিষয়ে সবুজ সংকেত মিলেছে।


৩.বিভিন্ন রক্তদান শিবির থেকে রক্ত সংগ্রহ, পরীক্ষা এবং তা নিরাপদে পরিবহনের জন্য আসছে আধুনিক ব্লাড ট্রান্সপোর্টেশন ভ্যান।

৪. ছাড়াও অস্ত্রোপচারের মান বাড়াতে অপারেটিং মাইক্রোস্কোপ এবং স্বল্প ক্ষত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি আনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।


ভবিষ্যতের চাহিদার কথা মাথায় রেখে হাসপাতালের পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে হাতোয়াড়া ক্যাম্পাসে সম্পূর্ণ মেডিক্যাল কলেজটি স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
ক্যাম্পাসটি আরও বড় করতে পাশে থাকা কৃষি দপ্তরের ১০ একর জমি নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ। কৃষি দপ্তরের পক্ষ থেকে এই জমি হস্তান্তরে কোনও আইনি জটিলতা নেই। বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, জমি হস্তান্তরের এই প্রক্রিয়াটি যাতে দ্রুত শেষ করা যায়, তার জন্য তিনি সবরকম চেষ্টা চালাচ্ছেন।

সম্পূর্ণ ক্যাম্পাসটি স্থানান্তরিত হলে জলের চাহিদা বহুগুণ বাড়বে। সেই বিষয়টিকে আগাম গুরুত্ব দিয়ে হাসপাতালে পর্যাপ্ত জলের স্থায়ী বন্দোবস্ত করার রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে।


উন্নয়নের এই ব্লু-প্রিন্টটি তৈরি হয়েছে মূলত জেলায় হওয়া প্রথম ডিস্ট্রিক্ট ডেভেলপমেন্ট কো-অর্ডিনেশন মনিটরিং কমিটি বা 'দিশা'র  বৈঠকের পর। সেই বৈঠকে হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব, নানান জরুরি বিভাগের অনুপস্থিতি এবং পরিকাঠামোগত খামতিগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে উঠে এসেছিল।

এর পরেই জেলার মানুষের স্বাস্থ্য পরিষেবা নিশ্চিত করতে তৎপর হন বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায়। কলকাতায় স্বাস্থ্য ভবনের এই বৈঠকের পর তিনি আশাপ্রকাশ করেন যে, এবার পুরুলিয়ার মানুষ ঘরের কাছেই উন্নত চিকিৎসা পাবেন। তবে বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, "আমি যতটুকু পারছি চেষ্টা করছি। দেবেন মাহাতো হাসপাতালটি এতদিন নামেই মেডিক্যাল কলেজ ছিল। তৃণমূলের জমানায় এর পরিকাঠামো উন্নয়নে কোনও বাস্তবসম্মত কাজই হয়নি। এবার আমরা সেই ছবিটা বদলাতে বদ্ধপরিকর।"