শুভদীপ মাহাত, পুরুলিয়া:
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে ২০ জুন 'পশ্চিমবঙ্গ দিবস' হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আর এই সরকারি নির্দেশিকা মেনেই এবার প্রথমবার পুরুলিয়ার সিধো-কানহো-বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়ে অত্যন্ত উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঙ্গে পালিত হল দিনটি।
সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ছিল উৎসবের আমেজ। অনুষ্ঠানের সূচনা হয় এক গভীর শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের মাধ্যমে। বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত সিধো মুর্মু, কানহো মুর্মু, বিরসা মুন্ডা, স্বামী বিবেকানন্দ এবং মাইকেল মধুসূদন দত্তের মূর্তিতে মাল্যদান করা হয়। এই বিশেষ কর্মসূচিতে মুখ্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগদা আশ্রমের স্বামী ভক্তিপ্রিয়ানন্দজী মহারাজ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ডঃ পবিত্র কুমার চক্রবর্তী সহ অন্যান্য আধিকারিক, বিভিন্ন বিভাগের অধ্যাপক, গবেষক, বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীরা।
মূল সেমিনার পর্বটি শুরু হয় ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রতিকৃতিতে মাল্যদানের মধ্য দিয়ে। উপস্থিত সম্মানীয় অতিথিদের বরণ করে নেওয়ার পর মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বলন করা হয়। এরপর জাতীয় স্তোত্র 'বন্দে মাতরম' এবং 'সরস্বতী বন্দনা'র সুমধুর ধ্বনির মাধ্যমে সেমিনারের শুভ সূচনা হয়।
এই দিনটি পালনের মূল উদ্দেশ্য এবং তাৎপর্য তুলে ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডঃ পবিত্র কুমার চক্রবর্তী তাঁর বক্তব্যে বলেন, "পশ্চিমবঙ্গ ভারতবর্ষের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল আজকের দিনে। এটা যে কত প্রয়োজন ছিল আজকে আমরা বুঝতে পারছি। এই অন্তর্ভুক্তি ভারতবর্ষের একটা গৌরব উজ্জ্বল অধ্যায়, এবং সেটাকে নিয়ে এই পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন করতে পেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আমরা প্রত্যেকে খুব গর্ব অনুভব করছি।" এরপর সেমিনারে উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য তথা পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের একটি বিশেষ ভিডিও বার্তা প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল পশ্চিমবঙ্গের ভারতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে এক গভীর আলোচনা চক্র। এর পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আয়োজিত হয় কুইজ ও ডিবেট প্রতিযোগিতা। এই বিতর্ক প্রতিযোগিতায় নিজেদের যুক্তিতে শান দিয়ে প্রথম স্থান ছিনিয়ে নেন শিক্ষাবিজ্ঞান বিভাগের গবেষক (রিসার্চ স্কলার) সুজিত কুইরি এবং দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী সুস্মিতা রায়।
এমন একটি উদ্যোগের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে এই কর্মসূচির যুগ্ম আহ্বায়ক তথা পদার্থবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডক্টর সঞ্জয় মন্ডল বলেন, "পশ্চিমবঙ্গের যে ঐতিহ্য, যে সংস্কৃতি, যে ইতিহাস, যে মনীষীদের অবদান, বিজ্ঞানীদের অবদান, সমস্ত কিছু ছাত্র-ছাত্রী, বিশেষ করে রিসার্চ স্কলার ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে তুলে ধরার জন্য এইরকম একটা অনুষ্ঠান, পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপন, এটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ ছিল।"
সবশেষে, পোস্টার তৈরি, প্রবন্ধ ও অন্যান্য প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় এবং সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ঐতিহাসিক ও বর্ণাঢ্য কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।