নিজস্ব প্রতিনিধি , রঘুনাথপুর:
একদিকে পূর্ত দপ্তর, অন্যদিকে অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ দপ্তর। রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে এই দুই গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েই দুর্নীতি ও বেনিয়মের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের বার্তা দিলেন নদীয়ারচাঁদ বাউরী। তাঁর দাবি, বিগত সরকারের আমলে দুই দপ্তরেই একাধিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সেই সব খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বুধবার রঘুনাথপুরের মৌতড় কালীমন্দিরে পুজো দিতে এসে মন্ত্রী বলেন, অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ দপ্তরে জাতিগত শংসাপত্র নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তাঁর কাছে পৌঁছেছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বহু ক্ষেত্রে ভুয়ো শংসাপত্র দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। মন্ত্রীর কথায়, ‘‘যাঁরা এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভুয়ো শংসাপত্রের মাধ্যমে এতদিন যাঁরা সরকারি সুবিধা নিয়েছেন, তাঁরাও রেহাই পাবেন না।’’ তাঁর দাবি, সরকারের অবস্থান দুর্নীতির প্রশ্নে ‘জিরো টলারেন্স’।
শুধু অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ দপ্তরই নয়, পূর্ত দপ্তরের কাজ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মন্ত্রী। রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা ও সেতুর বেহাল অবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, কোথায় কোথায় রাস্তা ও সেতুর অবস্থা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে, তার একটি বিস্তারিত তালিকা তৈরি করা হবে। সেই তালিকার ভিত্তিতেই সংস্কার ও মেরামতির কাজ শুরু হবে।
এ দিন মন্দিরে বিশেষ পুজো ও প্রার্থনা সভারও আয়োজন করা হয়েছিল। দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সবচেয়ে বেশিদিন একনাগাড়ে থেকে নজির গড়েছেন নরেন্দ্র মোদী। তাঁর দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য এবং ভবিষ্যতের সাফল্য কামনায় পুজো দেন মন্ত্রী। বিজেপি নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও ভিড় ছিল মন্দির চত্বরে। অনেকেই নতুন দায়িত্ব পাওয়ায় নদীয়ারচাঁদকে শুভেচ্ছা জানান।
দুই গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব পাওয়ার পরই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের আশ্বাস দিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন নদীয়ারচাঁদ বাউরী। তাঁর ঘোষণাগুলি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।