নিজস্ব প্রতিনিধি, মানবাজার
বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন এবং বেসরকারীকরণের আগ্রাসন রুখতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের একজোট হয়ে লড়াইয়ের ডাক দেওয়া হলো মানবাজারে। বুধবার মানবাজারের রাধামাধব ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার শংসাপত্র প্রদান অনুষ্ঠানটি স্রেফ পুরস্কার বিতরণের গণ্ডি ছাড়িয়ে সরকারি শিক্ষা রক্ষার এক গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে উঠল।
১৯৯২ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন পর্ষদের পরিচালনায় অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে এই পরীক্ষা পরিচালিত হয়ে আসছে। এ দিনের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জিতুজুড়ি হাইস্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক বঙ্কিমচন্দ্র মাহাত। বিদ্যাসাগরের প্রতিকৃতিতে মাল্যদানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করে তিনি শিক্ষক সমাজের আদর্শকে স্মরণ করিয়ে দেন।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত প্রধান বক্তা তথা পুরুলিয়া জেলা বৃত্তি পরীক্ষা পরিচালন কমিটির সম্পাদক, প্রাক্তন শিক্ষক সুব্রত মুখোপাধ্যায় তাঁর বক্তব্যে বৃত্তি পরীক্ষার দীর্ঘ ইতিহাসের কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে আগামী দিনের পরীক্ষার প্রস্তুতি ও বিষয়ের ওপর আলোকপাত করার পাশাপাশি, কর্পোরেট শিক্ষার দাপট থেকে সরকারি স্কুল ও সাধারণ ঘরের ছাত্র-ছাত্রীদের অধিকার রক্ষায় সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুমারী হাইস্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক বীরেন মজুমদার সহ এলাকার একঝাঁক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ।
কৃতী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে এ দিন ভিড় জমিয়েছিলেন বহু অভিভাবক ও স্থানীয় গুণীজনেরা। মেধার ভিত্তিতে প্রথম চারজন ছাত্র-ছাত্রীকে জেলা কমিটির পক্ষ থেকে বিশেষ উপহার ও পুষ্পস্তবক দিয়ে সম্মানিত করা হয়। এ ছাড়া বাকি উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের হাতে শংসাপত্র, কলম ও টিফিন তুলে দেন সেন্টার কমিটির সদস্যরা। অনুষ্ঠান শেষে আগামী দিনে এই চর্চাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে বঙ্কিমচন্দ্র মাহাতকে সভাপতি মনোনীত করে একটি শক্তিশালী 'বর্ধিত সেন্টার কমিটি' গঠন করা হয়।