ব্লক

আবাস যোজনার টাকাতে কাটমানি? মানবাজারে তৃণমূল ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারকে ঘিরে বিক্ষোভ

যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত আর্থিক লেনদেন ও প্রতারণার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ঠিকাদার। তিনি বলেন, "আমার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি কারও কাছ থেকে কোনো আবাস যোজনার টাকা নিইনি।
আবাস যোজনার টাকাতে কাটমানি? মানবাজারে তৃণমূল ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারকে ঘিরে বিক্ষোভ

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, মানবাজার:

প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার সরকারি বরাদ্দের টাকা পাইয়ে দেওয়ার নামে বিপুল অঙ্কের 'কাটমানি' নেওয়ার অভিযোগ। আর সেই অভিযোগকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার বিকেলে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল মানবাজারের কামতা-জাঙ্গিদিরি অঞ্চল। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের বিক্ষোভের মুখে পড়লেন এলাকারই এক তৃণমূল ঘনিষ্ঠ ঠিকাদার। পরিস্থিতি এমন চরম পর্যায়ে পৌঁছায় যে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তের পরনের কাপড় পর্যন্ত খুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছলে পুলিশকে ঘিরেও চলে বিক্ষোভ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কামতা-জাঙ্গিদিরি অঞ্চলের কুদা গ্রামের বাসিন্দা তথা এলাকার পরিচিত তৃণমূল ঘনিষ্ঠ ঠিকাদার অসিত মাহাতোর বিরুদ্ধে এই দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। গ্রামবাসীদের দাবি, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার দ্বিতীয় কিস্তির টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এলাকার ৩০ জনেরও বেশি উপভোক্তার কাছ থেকে মাথাপিছু ১০ হাজার টাকা করে আদায় করেছিলেন অসিতবাবু। কিন্তু দীর্ঘদিন কেটে গেলেও না মিলেছে সরকারি টাকা, না ফেরত পাওয়া গেছে অগ্রিম দেওয়া কাটমানির টাকা। ফলে গত কয়েকদিন ধরেই তলে তলে ক্ষোভ জমছিল গ্রামবাসীদের মনে।

মঙ্গলবার বিকেলে অভিযুক্ত ঠিকাদার অসিত মাহাতো এলাকায় আসতেই তাঁর ওপর ফেটে পড়ে উপভোক্তাদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ। নিমেষের মধ্যে গ্রামবাসীরা তাঁকে ঘিরে ধরে টাকা ফেরতের দাবিতে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, তর্কাতর্কির মাঝেই উত্তেজিত জনতার একাংশ আচমকা ঠিকাদারকে টানাহেঁচড়া করতে শুরু করে এবং তাঁর পরনের কাপড় খুলে নেওয়ার চেষ্টা চালায়।

গ্রামবাসীদের সঞ্জয় মাহাতো বলেন,
"গরিব মানুষের হকের ঘর। সেই ঘরের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা ছাড়ানোর নাম করে আমাদের ৩০-৩৫ জনের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা করে নিয়েছে অসিত মাহাতো। টাকাও ফেরত পাচ্ছি না, ঘরও হচ্ছে না। টাকা ফেরত চাইলে আজ দেব, কাল দেব বলে ঘোরাচ্ছিল। আজ হাতেনাতে পেয়ে আমরা জবাব চেয়েছি।"

গ্রামবাসী জিতেন্দ্র মান্ডি বলেন, "আমরা খেটে খাওয়া মানুষ। ঘরের আশায় ধারদেনা করে ওর হাতে টাকা তুলে দিয়েছিলাম। আমাদের সাথে জালিয়াতি করা হয়েছে। যতক্ষণ না কাটমানির পুরো টাকা ফেরত পাব, ততক্ষণ আমাদের আন্দোলন চলবে।"

গ্রামবাসী‌ হরেকৃষ্ণ মাহাতো বলেন,
"এলাকায় শাসকদলের ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুবাদে ও দীর্ঘদিন ধরে এই দালালি চালাচ্ছিল। সাধারণ মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে বলেই আজ এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।"

ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিতে কামতা-জাঙ্গিদিরি এলাকায় পৌঁছায় কেন্দা থানার পুলিশ। পুলিশ বাহিনী উত্তেজিত জনতার হাত থেকে অভিযুক্ত ঠিকাদারকে উদ্ধার করে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়। ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা পুলিশের গাড়িটিকেও চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন। বেশ কিছু সময় ধরে এলাকায় তীব্র উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির

যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত আর্থিক লেনদেন ও প্রতারণার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ঠিকাদার। তিনি বলেন, "আমার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি কারও কাছ থেকে কোনো আবাস যোজনার টাকা নিইনি। রাজনৈতিকভাবে আমাকে কালিমালিপ্ত করার জন্য এবং এলাকায় আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই কিছু মানুষ পরিকল্পনা করে এই অশান্তি পাকিয়েছে এবং আমার ওপর চড়াও হয়েছে।"

শেষ পর্যন্ত পুলিশ অসিত মাহাতোকে উদ্ধার করে কেন্দা থানায় নিয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে পরে। ঘটনার জেরে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।