উৎসবের আলোয় ধর্ম ও পুজোপাঠ শহর

১৭৮ বছরে গন্ধেশ্বরী পুজো, ঐতিহ্যে মুখর পুরুলিয়ার চকবাজার, জেলার প্রান্তে প্রান্তে উৎসবে মুখর গন্ধবণিকরা

পুরুলিয়া রামকৃষ্ণ মিশনের সম্পাদক স্বামী শিবপ্রদানন্দ বলেন, “এই ধরনের ঐতিহ্যবাহী পূজা শুধু ধর্মীয় আচার নয়, সমাজের সাংস্কৃতিক ঐক্যকেও সুদৃঢ় করে। গন্ধেশ্বরী পূজার মাধ্যমে বহু প্রাচীন বিশ্বাস ও ভক্তির ধারা আজও বহমান রয়েছে।”
১৭৮ বছরে গন্ধেশ্বরী পুজো, ঐতিহ্যে মুখর পুরুলিয়ার চকবাজার, জেলার প্রান্তে প্রান্তে উৎসবে মুখর গন্ধবণিকরা

 


সুইটি চন্দ্র, পুরুলিয়া

ঐতিহ্যকে সঙ্গে নিয়েই পুরুলিয়া শহরের চকবাজারে শুরু হল ঐতিহ্যবাহী গন্ধেশ্বরী পুজো। এ বছর এই পুজো ১৭৮তম বর্ষে পদার্পণ করল। বৃহস্পতিবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভক্তদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত পুরুলিয়া রামকৃষ্ণ মিশনের সম্পাদক স্বামী শিবপ্রদানন্দ বলেন, “এই ধরনের ঐতিহ্যবাহী পূজা শুধু ধর্মীয় আচার নয়, সমাজের সাংস্কৃতিক ঐক্যকেও সুদৃঢ় করে। গন্ধেশ্বরী পূজার মাধ্যমে বহু প্রাচীন বিশ্বাস ও ভক্তির ধারা আজও বহমান রয়েছে।”
দেবী গন্ধেশ্বরী মূলত মা দুর্গারই একটি রূপ। পুরাণ মতে, তিনি গন্ধাসুর নামক অসুরকে বধ করেছিলেন, সেই থেকেই তাঁর নাম গন্ধেশ্বরী। এই পূজা বিশেষভাবে যুক্ত গন্ধবণিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে। প্রাচীনকালে ব্যবসায়ীরা নদীপথে বাণিজ্যের সময় ঝড়, ডাকাতি বা অন্যান্য বিপদ থেকে রক্ষার আশায় এই দেবীর আরাধনা করতেন।
পুজো উপলক্ষে চারদিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান শাখা সমিতির সম্পাদক নূপুর হালদার। তিনি জানান, "১ মে সকালে শোভাযাত্রার মাধ্যমে ঘট আনয়ন, পুজো, পুষ্পাঞ্জলি ও চণ্ডীপাঠ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২ মে থাকবে নিয়মিত পুজোর পাশাপাশি বিশেষ ঢাকির অনুষ্ঠান। ৩ মে পুজো ও হোম যজ্ঞের পর ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হবে। ৪ মে ঘট বিসর্জন এবং ৫ মে শোভাযাত্রার মাধ্যমে প্রতিমা নিরঞ্জনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে"।
জেলার অন্যান্য প্রান্তেও গন্ধেশ্বরী পুজো সাড়ম্বরে আয়োজিত হচ্ছে। জয়পুর, মানবাজার, রঘুনাথপুর, বান্দোয়ান সর্বত্র শুধু গন্ধবণিক সম্প্রদায় নয়, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের কাছেও বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে এই পুজো।

ছবি : পুরুলিয়া চকবাজার ও জয়পুর লক্ষ্মীমেলা চক।