শুভদীপ মাহাত, পুরুলিয়া:
দীর্ঘদিনের লড়াই ও আন্দোলনের ফসল কুড়মালি ভাষার স্বীকৃতি। পশ্চিমবঙ্গ সরকার ইতিমধ্যেই এই ভাষাকে রাজ্যের দ্বিতীয় ভাষার মর্যাদা দিয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্তরে এর পঠনপাঠনও শুরু হয়েছে। মাতৃভাষার এই স্বীকৃতি পুরুলিয়াবাসীর কাছে অত্যন্ত গর্বের। এবার এই ভাষার উচ্চশিক্ষা, গবেষণা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যে সিধো-কানহো-বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে ৮ দফা দাবি পেশ করল আদিবাসী কুড়মি সমাজ।
বুধবার সংগঠনের ‘মূলমানতা’ (মুখ্য উপদেষ্টা) অজিত প্রসাদ মাহাত-র নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক (ডঃ) পবিত্র কুমার চক্রবর্তীর হাতে এই ডেপুটেশন ও দাবিপত্র তুলে দেওয়া হয়।
উপাচার্যের কাছে পেশ করা ৮টি প্রধান দাবি-
স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ: অবিলম্বে কুড়মালি বিভাগে স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে।
গবেষণার সুযোগ: কুড়মালি ভাষায় পিএইচডি কোর্স চালু করতে হবে।
স্থানীয়দের অগ্রাধিকার: পিএইচডি-তে ভর্তির ক্ষেত্রে স্থানীয় ছাত্রছাত্রীদের প্রাধান্য দিতে হবে।
নেট/সেট পরীক্ষা: কুড়মালি ভাষায় যাতে আলাদাভাবে নেট এবং সেট পরীক্ষা নেওয়া যায়, তার যথাযথ ব্যবস্থা করতে হবে।
মেজর সাবজেক্ট হিসেবে পঠনপাঠন: সিধো-কানহো-বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা সমস্ত কলেজে কুড়মালি ভাষাকে 'মেজর সাবজেক্ট' হিসেবে পড়ানো শুরু করতে হবে।
লিপির স্বীকৃতি: কুড়মালি ভাষার লিপির মান্যতা আদায়ের জন্য বিশেষ আলোচনা চক্রের আয়োজন ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
পর্যাপ্ত হোস্টেল: দূরদূরান্ত থেকে আসা পড়ুয়াদের সুবিধার জন্য যথেষ্ট সংখ্যক হোস্টেলের ব্যবস্থা করতে হবে।
সংস্কৃতি চর্চা: কুড়মালি সহ এই অঞ্চলের অন্যান্য জনজাতীয় ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত আলোচনা এবং সেমিনারের আয়োজন করতে হবে।
বর্তমানে পুরুলিয়া জেলার ১২টি কলেজে কুড়মালি পড়ানো হলেও কোথাও কোনো স্থায়ী অধ্যাপক নেই। এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কলেজগুলিতে অবিলম্বে স্থায়ী পদে অধ্যাপক নিয়োগের দাবি জানিয়েছে সংগঠন।
প্রতি বছর বহু মেধাবী ছেলেমেয়ে কুড়মালি ভাষা ও সাহিত্যে নেট/জেআরএফ পাস করলেও গবেষণার সুযোগ থেকে তাঁরা বঞ্চিত হচ্ছেন। এই প্রসঙ্গে আদিবাসী কুড়মি সমাজের মূল খুঁটি অজিত প্রসাদ মাহাতো ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "প্রায় প্রত্যেক জেলাতেই ইউনিভার্সিটি রয়েছে, তবুও পিএইচডি কোর্সে ভর্তির ক্ষেত্রে পুরুলিয়ার পড়ুয়াদের বঞ্চিত করা হয় কেন?" তিনি আরও জানান, এই সমস্ত দাবি পূরণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে, আদিবাসী কুড়মি সমাজ তাদের সবরকমভাবে সহযোগিতা করবে।
রাজ্য সরকার সম্প্রতি বাজেটে কুড়মালি ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশের জন্য ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে বলে জানান অজিত বাবু। তিনি আরও বলেন, আগামী ২রা জুলাই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আদিবাসী কুড়মি সমাজের একটি বিশেষ বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে। সেই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও সিধো-কানহো-বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকাঠামোগত উন্নয়নের জোরালো দাবি তোলা হবে।
এই বিষয়ে সিধো-কানহো-বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপক তথা কুড়মালি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান ডঃ সনৎ কুমার মাহাত জানিয়েছেন, "আগামী আগস্ট মাসেই কুড়মালি লিপি সংক্রান্ত আলোচনার জন্য বিশিষ্ট ভাষাবিদদের নিয়ে একটি বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করা হবে"।