সাধারণ খবর শহর

বেতন নেই, পুরুলিয়া শহরে জল বন্ধ করার হুঁশিয়ারি পুরসভার জল বিভাগের কর্মীদের

পুরুলিয়া পুরসভার অন্যান্য বিভাগের কর্মীরা বেতন পেলেও, ব্রাত্য রয়ে গেছেন কেবল জল বিভাগের অস্থায়ী কর্মীরাই। এই চরম বৈষম্যের প্রতিবাদে এবং এক মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে শনিবার পুরুলিয়া পুরসভা চত্বরে ব্যাপক ক্ষোভ ফেটে পড়লেন অস্থায়ী জল-কর্মীরা।
বেতন নেই, পুরুলিয়া শহরে জল বন্ধ করার হুঁশিয়ারি পুরসভার জল বিভাগের কর্মীদের

 


নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:

চলতি বর্ষার মরশুমে বৃষ্টি যখন নামেমাত্র, তখন পুরুলিয়া পৌর এলাকায় তীব্র পানীয় জল সংকটের আশঙ্কা তৈরি হলো। পুরসভার অন্যান্য বিভাগের কর্মীরা বেতন পেলেও, ব্রাত্য রয়ে গেছেন কেবল জল বিভাগের অস্থায়ী কর্মীরাই। এই চরম বৈষম্যের প্রতিবাদে এবং এক মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে শনিবার পুরুলিয়া পুরসভা চত্বরে ব্যাপক ক্ষোভ ফেটে পড়লেন অস্থায়ী জল-কর্মীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে পৌর আধিকারিকদের ঘেরাও করে চলে বিক্ষোভ। দ্রুত দাবি না মিটলে আগামী দিনে শহরজুড়ে জল সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে ‘কর্মবিরতি’র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

আন্দোলনকারী কর্মীদের অভিযোগ, "পুরুলিয়া পুরসভায় প্রায় ১,২০০ জন অস্থায়ী কর্মী কাজ করেন। সম্প্রতি বাকি সব বিভাগের কর্মীদের বেতন মিটিয়ে দেওয়া হলেও, শুধুমাত্র জল বিভাগের ১৬০ জন কর্মীকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। পুরুলিয়া শহরের ২০টি সাপ্লাই পয়েন্টের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ঘরে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার গুরুদায়িত্ব সামলান এই কর্মীরাই। অথচ, বারবার কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোনো সদর্থক ভূমিকা মেলেনি। "

বর্তমানে ঝালদার মহকুমা শাসক পুরুলিয়া পুরসভার প্রশাসকের দায়িত্বে রয়েছেন। শনিবার পুরসভার প্রধান করণিক কল্যাণ মাহান্তিকে সামনে পেয়েই নিজেদের ক্ষোভ উগরে দেন বঞ্চিত কর্মীরা।

এদিকে বিক্ষোভের জেরে পুরুলিয়া পুরসভায় বেশ কিছুক্ষণের জন্য অচলাবস্থা তৈরি হয়। আন্দোলনকারীদের ঘেরাওয়ের মুখে পড়েন পুরসভার প্রধান করণিক কল্যাণ মাহান্তি বলেন, কর্মীদের ক্ষোভের বিষয়টি আমি শুনেছি। ওদের বকেয়া বেতনের দাবিটি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তথা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হচ্ছে। তবে শহরবাসীর স্বার্থে কর্মীদের কাছে আমার অনুরোধ, তাঁরা যেন জল সরবরাহ বন্ধ বা কর্মবিরতির মতো কোনো চরম পদক্ষেপ না নেন।"