ক্রাইম ব্লক

পিস্তল উঁচিয়ে ডাকাতি-খুনের চেষ্টার অভিযোগ, পুলিশের জালে জাতীয় সড়ক নির্মাণ সংস্থার শীর্ষ কর্তা

খোদ জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের কাজে যুক্ত ঠিকাদার সংস্থার শীর্ষ কর্তার বিরুদ্ধেই উঠল পিস্তল উঁচিয়ে ডাকাতি ও খুনের চেষ্টার মারাত্মক অভিযোগ। নৈশপ্রহরীকে মারধর করে চুরির অভিযোগে শেষমেশ পুলিশের খাঁচায় পুরুলিয়ার আড়শা থানার কৌরাং ক্যাম্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার।
পিস্তল উঁচিয়ে ডাকাতি-খুনের চেষ্টার অভিযোগ, পুলিশের জালে জাতীয় সড়ক নির্মাণ সংস্থার শীর্ষ কর্তা

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, আড়শা:

উন্নয়নের কাজের আড়ালে কি তবে চলছে মাফিয়াবাজি? খোদ জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের কাজে যুক্ত ঠিকাদার সংস্থার শীর্ষ কর্তার বিরুদ্ধেই উঠল পিস্তল উঁচিয়ে ডাকাতি ও খুনের চেষ্টার মারাত্মক অভিযোগ। নৈশপ্রহরীকে মারধর করে চুরির অভিযোগে শেষমেশ পুলিশের খাঁচায় পুরুলিয়ার আড়শা থানার কৌরাং ক্যাম্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার। ধৃত যুবকের নাম অপু নায়েক ওরফে নিগিমানন্দ। ওড়িশার জয়পুর জেলার বালিচন্দ্র থানার আম্বসৌরি এলাকার বাসিন্দা ওই যুবকের ঠাঁই হয়েছে এখন পুলিশি হেফাজতে।

১৮ নম্বর জাতীয় সড়ক প্রশস্তিকরণের কাজ চলছে জোরকদমে। কৌরাং এলাকায় তৈরি হয়েছে ঠিকাদার সংস্থার একটি বড় ক্যাম্প। আড়শা থানার পুয়াড়া গ্রামের বাসিন্দা সুভাষ চন্দ্র মুর্মু সেখানে নৈশপ্রহরীর কাজ করেন। তাঁর অভিযোগ, রবিবার ভোররাতে মদ্যপ অবস্থায় দলবল নিয়ে ক্যাম্পে চড়াও হয় খোদ প্রজেক্ট ম্যানেজার অপু নায়েক। ক্যাম্প থেকে চারটি দামি ওজন মেশিন  গাড়ি বোঝাই করার চেষ্টা করে সে।
কর্তব্যে অবিচল সুভাষবাবু লিখিত নির্দেশ ছাড়া ওই সরকারি সরঞ্জাম নিয়ে যেতে বাধা দেন। আর তাতেই বাধে বিপত্তি। ‘চোর তাড়াতে’ গিয়ে খোদ প্রজেক্ট ম্যানেজারের রোষের মুখে পড়তে হয় নিরাপত্তা কর্মীদের।

এই ঘটনার পর রবিবার রাতেই আড়শা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সুভাষবাবু। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই তৎপরতা দেখায় পুলিশ। প্রজেক্ট ম্যানেজার অপু নায়েককে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে চুরি, মারধর এবং আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে খুনের চেষ্টার মামলা রুজু করা হয়েছে।

সোমবার ধৃতকে পুরুলিয়া জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক তার জামিনের আবেদন নাকচ করে দেন এবং ঘটনার গভীরে পৌঁছাতে ৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। এই চক্রে আর কারা জড়িত এবং আগ্নেয়াস্ত্রটি কোথা থেকে এল, তা খতিয়ে দেখছে আড়শা থানার পুলিশ।