ক্রাইম ব্লক

মাদক কারবারে এ বার ৪০ লক্ষের সম্পত্তিতে কোপ, বাঘমুণ্ডিতে বিরাট পদক্ষেপ পুরুলিয়া পুলিশের

▪️২৬০ কেজিরও বেশি পোস্তর খড় উদ্ধার মামলায় অভিযুক্তের বাড়ি, জমি, মোটরবাইক ও ব্যাঙ্কের টাকা ফ্রিজ়। ▪️স্কুলে গিয়ে পড়ুয়াদেরও সচেতন করলেন পুলিশ সুপার।
মাদক কারবারে এ বার ৪০ লক্ষের সম্পত্তিতে কোপ, বাঘমুণ্ডিতে বিরাট পদক্ষেপ পুরুলিয়া পুলিশের

 

 


নিজস্ব প্রতিনিধি , বাঘমুন্ডি :

মাদক কারবারে এ বার সম্পত্তিতে কোপ। শুধু গ্রেফতারি নয়, মাদক সংক্রান্ত মামলায় অভিযুক্তের বাড়ি, জমি, মোটরবাইক ও ব্যাঙ্কের টাকাও ফ্রিজ় করল পুরুলিয়া জেলা পুলিশ। বাঘমুণ্ডি থানার একটি মামলায় ৪১ লক্ষ টাকারও বেশি সম্পত্তিতে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, চলতি বছরের ৮ জুন বাঘমুণ্ডি থানায় নথিভুক্ত একটি মামলায় ২৬০.৬৭৭ কেজি পোস্তর খড় উদ্ধার হয়েছিল। সেই মামলায় অভিযুক্ত কুঁচি সরজামহাতু গ্রামের রাজেশ কুমার শ-এর সম্পত্তি ফ্রিজ় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজের উপস্থিতিতে অভিযুক্তের দুটি স্থাবর সম্পত্তিতে নোটিস টাঙানো হয়। ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশনস) এবং অন্য পুলিশ আধিকারিকেরা।

পুলিশ জানিয়েছে, কুঁচি গ্রামের একটি বাড়ির মূল্য ৩১ লক্ষ ৫৭ হাজার ৫০৮ টাকা। পরমটিকর মৌজায় আট ডেসিমেল জমি ও তার উপরে থাকা পুরনো কাঠামোর মূল্য ৬ লক্ষ ৪৬ হাজার ২৫০ টাকা। এ ছাড়াও মোটরবাইক ও ব্যাঙ্কে থাকা ৩ লক্ষ ২২ হাজার ৭১০ টাকা ফ্রিজ় করা হয়েছে। সব মিলিয়ে সম্পত্তির মূল্য ৪১ লক্ষ টাকারও বেশি।

এনডিপিএস আইনের আওতায় এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। সম্পত্তি ফ্রিজ় হওয়ার অর্থ বাড়ি ভেঙে দেওয়া বা কাউকে উচ্ছেদ করা নয়। আইনি প্রক্রিয়া চলাকালীন ওই সম্পত্তি বিক্রি, হস্তান্তর বা বন্ধক রাখা যাবে না।

মাদক কারবারের বিরুদ্ধে অভিযানের পাশাপাশি সচেতনতা বাড়াতেও উদ্যোগী পুলিশ। বৃহস্পতিবার বাঘমুণ্ডির বুড়দা হাইস্কুলে গিয়ে পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলেন পুলিশ সুপার। অবৈধ পোস্ত চাষ ও মাদক পাচারের পাশাপাশি সাইবার অপরাধ এবং বাল্যবিবাহের বিপদ সম্পর্কেও পড়ুয়াদের সচেতন করেন তিনি। বিশেষ করে যে সব এলাকায় অতীতে অবৈধ পোস্ত চাষের প্রবণতা ছিল, সেখানে সচেতনতা বাড়ানোর উপরে জোর দিয়েছে পুলিশ।

জেলা পুলিশের বক্তব্য, মাদক কারবার ও অবৈধ পোস্ত চাষের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ চলবে। গ্রেফতারির পাশাপাশি অপরাধের সঙ্গে যুক্ত সম্পত্তির আর্থিক অনুসন্ধানও করা হবে। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে অভিযান এবং সচেতনতা—দুই দিকেই জোর দিতে চাইছে পুরুলিয়া জেলা পুলিশ।