নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া :
সরকারি অফিসে এখনও 'আইপ্যাক'! বাংলার সহায়তা কেন্দ্রে বসে আছে আইপ্যাকের লোক! খোদ জেলা শাসক আর পুলিশ সুপারের পাশে বসে এমন অভিযোগ তুললেন পুরুলিয়ার বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার পশ্চিমাঞ্চলের ৫ জেলাকে নিয়ে দুর্গাপুরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বৈঠক। তারই প্রস্তুতি নিতে জেলা প্রশাসন একটি সমন্বয় আলোচনার ডাক দিয়েছিল মঙ্গলবার। প্রশাসনের প্রতিটি দফতরের আধিকারিকদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন জেলার ৯ বিধায়কও। সেখানেই এমন বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন সুদীপ।
এর আগে স্রেফ অ্যাকশন মোডে নামতে দেখা গেছে পুরুলিয়ার বিধায়ক কাল্টুকে। এদিন বৈঠকের আগে পুরুলিয়া ২ নং ব্লকে হঠাৎই পরিদর্শনে গিয়েছিলেন পুরুলিয়ার বিধায়ক। দেখেন এসসি,এসটি,ওবিসি শংসাপত্রের ফাইল পাহাড় হয়ে জমে আছে। বিধায়কের দাবি, তাড়াতাড়ি করতে হবে ফাইলের কাজ। মানুষকে আজ না কাল বলে ঘোরানো যাবে না।
এদিনের বৈঠকে কেন্দ্রের যে সকল প্রকল্প এতদিন বাংলায় অচ্ছুৎ ছিলো, এবার যেগুলোর সুবিধা বাংলার মানুষ পাবেন, সেগুলোর পূঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ।এলাকার বিধায়ক ও প্রতিটি দফতরের আধিকারিকরা পরষ্পর সমন্বয় সাধন করে সেই বিশ্লেষণ করবেন।
রেলের বিভিন্ন প্রকল্পের কাজও ছিলো আলোচনায়। রাজ্য এনওসি না দেওয়ায় কাজ ছিলো ঝুলে। বাঘমুন্ডির বিধায়ক রহিদাস মাহাতোর প্রশ্নে জেলাশাসক সুধীর কোন্থম জানিয়ে দেন, রেলের সঙ্গে আলোচনা করে ওই সমস্যা দ্রুত মিটিয়ে দেওয়া হবে। অন্যদিকে বন দফতরের উদ্দেশে বাঘমুন্ডির বিধায়ক বলেন, হাতির হামলায় যাতে ক্ষয়ক্ষতি কম হয় তা ভালো করে দেখতে হবে। মানবাজারের বিধায়ক ময়না মুর্মু পিডব্লিউডি-র রাস্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পাট্টা সঠিক ভাবে বিতরণ হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। বন দফতর তাঁকে সেই তথ্য দেয়। জেলা শাসক বৈঠক থেকেই শোনান সুখবর। বলেন, "জুলাইয়ের মধ্যে জাইকা জল প্রকল্পের কাজ শেষ হয়ে যাবে। আগামী আগস্ট মাস থেকে পানীয় জল পাবেন জেলার মানুষ।"
বৈঠকে টুরগা জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। বিস্তারিত আলোচনা হয় বালি নিয়ে। এরই ফাঁকে বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায় সরকারি আধিকারিকদের উদ্দেশে আবেদন রাখেন যাতে সরকারি প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর ছবি ঠিক ভাবে ব্যবহৃত হয়।"