নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
হাসপাতালে দালালরাজ বন্ধ করতে এবং রোগী পরিষেবা আরও স্বচ্ছ করতে সম্প্রতি একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা জারি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অ্যাপের মাধ্যমে অ্যাম্বুলেন্স বুকিং, সেন্ট্রাল মনিটরিং সিস্টেমে বেড তদারকি এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করার মতো নির্দেশের পর নড়েচড়ে বসেছে পুরুলিয়া গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও। কিন্তু প্রশাসনের এই প্রশাসনিক তৎপরতার মাঝেও খোদ জেলাবাসীর মনে উঠছে একটা বড় প্রশ্ন ,শুধু নিয়ম বদলে কি চিকিৎসা মিলবে, যদি হাসপাতালেই না থাকে পর্যাপ্ত পরিকাঠামো?
২০২০ সালে পুরুলিয়া সদর হাসপাতালকে আপগ্রেড করে মেডিক্যাল কলেজে রূপান্তর করা হলেও, আজও মেটেনি এর ভৌগোলিক ও পরিকাঠামোগত জটিলতা। শহর ক্যাম্পাস এবং ৮ কিলোমিটার দূরে হাতোয়াড়া ক্যাম্পাস এই দুই ক্যাম্পাসের চক্কর কাটতেই রোগীদের কালঘাম ছুটে যায়। তার ওপর হাসপাতালের বয়স ৬ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও এখানে নেই কোনো এমআরআই মেশিন, নেই কার্ডিওলজিস্ট বা নেফ্রোলজিস্টের মতো বিশেষজ্ঞ ডাক্তার। ফলে, মুখ্যমন্ত্রীর রেফার বন্ধের নির্দেশের পরও, স্রেফ পরিকাঠামোর অভাবে গুরুতর রোগীদের রেফার করতে বাধ্য হচ্ছেন চিকিৎসকরা।
পুরুলিয়াবাসী তাপস মণ্ডল বলেন, "সরকার নিয়ম কড়া করছে, সেটা ভালো কথা। কিন্তু হাসপাতালের ভেতর রোগ নির্ণয়ের ব্যবস্থাই যদি না থাকে, তবে সিসিটিভি ক্যামেরা বা পরিচয়পত্র দিয়ে রোগী কী করবে"?
অ্যাম্বুলেন্স চালক দুর্গা বাউরি বলেন,
"আমাদের চোর বা দালাল ভাবাটা ভুল। সরকারি স্তরে যদি পর্যাপ্ত এবং দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা না থাকে, তবে তো মানুষ বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সেরই খোঁজ করবে। যখন কোনো রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে রাঁচি বা অন্য কোথাও রেফার করা হয়, তখন জীবন বাঁচাতে রোগীরা আমাদের ডাকেন। দূরত্ব এবং তেলের দাম অনুযায়ী আমরা ভাড়া নিই, এখানে জোর করে বেশি টাকা নেওয়ার কোনো বিষয় নেই"।
পুরুলিয়া গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার দেবদীপ মুখার্জী জানান,
"মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশিকা আসার পর থেকেই আমরা হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের বায়োমেট্রিক বা পরিচয়পত্র ব্যবহারের ওপর কড়া নজরদারি শুরু করেছি। কিছু সুপার-স্পেশালিটি বিভাগের অভাব বা পরিকাঠামোগত খামতির বিষয়টি উচ্চপর্যায়ে জানানো আছে"।