নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
একেবারে সরকারি হাসপাতালের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে নিয়মের তোয়াক্কা না করেই চলছে প্রকাশ্য ব্যবসা। পুরুলিয়া গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে অনুমতি ছাড়াই বছরের পর বছর ধরে বেআইনি পার্কিং ও রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালকদের একাংশর বিরুদ্ধে। নো পার্কিং বোর্ডকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে, তৃণমূল শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি-র নামে সিন্ডিকেট চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ। শনিবার মাত্র ৫০০ মিটার দূরত্বের জন্য এক রোগীর পরিবারের কাছ থেকে ৫০০ টাকা আদায় করার ঘটনায় নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে হাসপাতাল চত্বরে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন কলেজ চত্বরে বেসরকারি গাড়ির পার্কিং সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অন্যদিকে শ্রমিক সংগঠন ও চালকদের বয়ানে উঠে আসছে এক ধোঁয়াশাপূর্ণ ছবি। প্রশ্ন উঠছে, প্রশাসনের নাকের ডগায় কীভাবে বছরের পর বছর ধরে এই বেআইনি কারবার চলছে?
রোগীর আত্মীয় সত্যবান মাহাতো বলেন,
“হাসপাতালে রোগী নিয়ে এমনিতেই আমরা চাপে থাকি। তার মধ্যে অল্প দূরত্বে নিয়ে যাওয়ার জন্য এত টাকা চাওয়া হচ্ছে, সেটা আমাদের মতো সাধারণ মানুষের পক্ষে খুবই সমস্যার।”
শ্রমিক সংগঠনের নেতা বিকাশ গাঙ্গুলি বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে রোগীদের পরিষেবা দিয়ে আসছি। গাড়ি চালানো, তেল, কর্মী সবকিছুর খরচ রয়েছে। অভিযোগ থাকলে প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখুক।”
বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালক
সঞ্জয় কুইরি জানান, “রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী পরিষেবা দেওয়া হয়। অনেক সময় অপেক্ষা করতে হয় বা অতিরিক্ত সময় লাগে, সেই কারণেই ভাড়ার কিছু পরিবর্তন হয়।”
পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল মেক্সি ট্যাক্সি ইউনিয়নের জেলা সভাপতি শেখ জুবের আলী বলেন, “সংগঠন হিসেবে অ্যাম্বুলেন্স চালকদের ইউনিয়ন রয়েছে। তবে হাসপাতাল চত্বরে পার্কিং বা পরিষেবার বিষয়ে স্বাস্থ্য দপ্তরের কী অনুমোদন আছে, সেটা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই বলতে পারবে।”
পুরুলিয়া গভর্মেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার দেবদীপ মুখার্জী বলেন, “হাসপাতালের ভিতরে বেসরকারি গাড়ি বা অ্যাম্বুলেন্সের জন্য কোনো নির্দিষ্ট পার্কিং অনুমোদিত নয়। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”