সুইটি চন্দ্র, পুরুলিয়া :
আগামী ২১শে মে দুর্গাপুরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে পশ্চিমাঞ্চলের পাঁচ জেলাকে নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। সেই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের দিকে নজর রেখে তৎপর পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার প্রস্তুতি হিসেবে পুরুলিয়ার নবনির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে জেলা শাসক কার্যালয়ে একটি বিশেষ সমন্বয় বৈঠকের আয়োজন করা হয়। লক্ষ্য একটাই, নতুন সরকারের আমলে জেলার উন্নয়নের গতিকে আরও ত্বরান্বিত করা।
কলকাতায় থাকার কারণে পুরুলিয়ার বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায় ও বাঘমুন্ডির বিধায়ক রহিদাস মাহাতো এই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে বাকি ৭ জন বিধায়ককে নিয়ে জেলা প্রশাসন বিস্তারিত আলোচনা সারে। বৈঠকে জেলা শাসক এবং নবনির্বাচিত বিধায়কদের কণ্ঠে জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন, সমস্যা ও তা সমাধানের ব্লু প্রিন্ট বেরিয়ে আসে।
জেলাশাসক সুধীর কোন্থম বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে বলেন,
"মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশানুসারে আজ আমরা নবনিযুক্ত বিধায়কদের নিয়ে একটি কোঅর্ডিনেশন মিটিং করেছি। জেলাস্তরে যে সমস্ত উন্নয়নমূলক কাজ চলছে, তার প্রত্যেকটির বর্তমান আপডেট ও তথ্য বিধায়কদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। আজ সব দপ্তরের আধিকারিকদের সাথে বিধায়কদের পরিচয় পর্বও সম্পন্ন হলো।"
তিনি আরও জানান, এরপর সাব-ডিভিশন এবং ব্লক স্তরেও ধারাবাহিকভাবে বৈঠক হবে। সেখানে পঞ্চায়েত সমিতি ও গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রতিনিধিরাও থাকবেন, যাতে বিধায়করা তাঁদের নিজস্ব বিধানসভা ভিত্তিক কাজের একটি সম্পূর্ণ ও স্পষ্ট আইডিয়া পেতে পারেন। ২১ তারিখের প্রশাসনিক বৈঠকের আরও বিস্তারিত নির্দেশিকা আসামাত্রই তা সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বৈঠকে উপস্থিত বিভিন্ন বিধানসভার প্রতিনিধিরা তাঁদের এলাকার সুনির্দিষ্ট সমস্যা ও দাবিদাওয়া প্রশাসনের সামনে তুলে ধরেন।
বান্দোয়ানের বিধায়ক লবসেন বাস্কে জমিজমা সংক্রান্ত সমস্যা, বিএলআরও অফিসের জটিলতা এবং বন দপ্তরের গাছ কাটার মতো বিষয়গুলি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে এলাকার বন্ধ হয়ে থাকা ছোট ছোট পাথর খাদানগুলি অবিলম্বে চালু করার দাবি জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, "খাদান বন্ধ থাকায় বহু মানুষ ট্রাক্টর বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন, দৈনিক মজুররা ভিন রাজ্যে কাজে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এগুলো চালু হলে সাধারণ মানুষের জীবিকা নির্বাহের পথ সুগম হবে।"
জয়পুরের বিধায়ক বিশ্বজিৎ মাহাতোর কথায়, তাঁর এলাকার মূল ফোকাস ছিল স্বাস্থ্য পরিষেবা। বন্ধ হয়ে থাকা হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলি কীভাবে দ্রুত পুনরুজ্জীবিত করা যায়, তা নিয়ে তিনি প্রশাসনের সাথে জরুরি আলোচনা করেন।
পাড়ার বিধায়ক নদিয়ারচাঁদ বাউরি রাস্তাঘাট, পানীয় জল ও স্বাস্থ্যের মতো মৌলিক পরিকাঠামোর সার্বিক উন্নয়নের দাবি জানান। বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর পুরুলিয়ার মতো পিছিয়ে পড়া জেলাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়ে তিনি জানান, "জেলা শাসক আমাদের সবরকম ভাবে আশ্বস্ত করেছেন এবং আগামী ২১ মে দুর্গাপুরে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকেও আমরাও যোগ দিচ্ছি।"
রঘুনাথপুর বিধায়ক মামনি বাউরি রঘুনাথপুরের মানুষের বিপুল আশীর্বাদ নিয়ে জয়ী হওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, "একজন বিধায়িকা হিসাবে রঘুনাথপুর বিধানসভার মানুষের যে আশা-আকাঙ্ক্ষা আছে, তা পূরণ করার দাবি নিয়েই আমি আজ ডিএম অফিসে এসেছিলাম।"
মানবাজার বিধায়ক ময়না মুর্মু মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া প্রস্তাব ও নির্দেশিকা নিয়ে আলোচনার কথা উল্লেখ করে বলেন, "ডিএম সাহেব ও সমস্ত আধিকারিকদের সাথে আমাদের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। পিছিয়ে পড়া পুরুলিয়াকে কীভাবে আরও উন্নত করা যায় এবং জনসাধারণের কাজ এগিয়ে নেওয়া যায়, সেটাই আমাদের মূল লক্ষ্য।"
বলরামপুর বিধায়ক জলধর মাহাতো
বৈঠকটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ 'পরিচয় বিনিময় সভা' হিসেবে উল্লেখ করে জানান, "প্রশাসন থেকে চলমান ও পুরোনো কাজের যে তালিকা দেওয়া হয়েছে, তা খতিয়ে দেখে পরবর্তীতে আরও বড় আকারে ও বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।"