নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
ভারত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রকের মর্যাদাপূর্ণ ‘তরুণ শিল্পী বৃত্তি’ প্রকল্পের ফলাফল প্রকাশিত হতেই খুশির হাওয়া জঙ্গলমহলে। ২০২৫-২৬ বর্ষের জন্য ছৌ নাচের চেনা বৃত্ত ভেঙে এই প্রথম পুরুলিয়া জেলার ঝুলিতে এল ভরতনাট্যমের মতো ধ্রুপদী নৃত্যের জাতীয় স্কলারশিপ। আর এই কৃতিত্ব অর্জন করে জেলার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় লিখলেন নৃত্যশিল্পী শ্রেয়া সিংহ।
গত ৬ই থেকে ২৭শে মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটির বৈঠকের পর চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। ঐতিহ্যগতভাবে এই তালিকায় পশ্চিমবঙ্গ তথা পুরুলিয়ার নাম বীর রসের ছৌ নাচের জন্য বরাদ্দ থাকলেও, এবার ছৌ নাচের পাশাপাশি ভরতনাট্যমের হাত ধরে এল এক অনন্য স্বীকৃতি। সংস্কৃতি মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচিত প্রার্থীদের বৃত্তি প্রদানের পত্র ও পরবর্তী নির্দেশ দিল্লির দ্বারকাস্থিত ‘সেন্টার ফর কালচারাল রিসোর্সেস অ্যান্ড ট্রেনিং’ এর তরফ থেকে আলাদাভাবে পাঠানো হচ্ছে।
জাতীয় স্তরের এই বিরাট সাফল্যের খবর পাওয়ার পর থেকেই উচ্ছ্বসিত শ্রেয়া সিংহ।
পরীক্ষার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে গিয়ে তিনি বলেন, "খবরটা পাওয়ার পর থেকে আমি ভীষণ আনন্দিত। এই সাফল্যের পুরো কৃতিত্ব আমার গুরুদের। মাত্র ৩ বছর বয়স থেকে আমি গুরু সুমিত রায়ের কাছে 'শিঞ্জন' সংস্থায় নাচের আঙিনায় পা রেখেছিলাম। মাঝে পড়াশোনার জন্য কিছুটা বিরতি নিতে হলেও, ২০২৩ সাল থেকে সুমিত স্যারের অনুমতি নিয়ে আমি কলকাতায় শুভজিৎ দত্ত স্যারের কাছে তালিম নেওয়া শুরু করি। তাঁদের দেখানো পথেই আজ আমি এখানে পৌঁছাতে পেরেছি।"
প্রথাগত স্টেজ পারফরম্যান্সের চেয়ে এই বৃত্তির পরীক্ষা পদ্ধতি যে অনেকটাই আলাদা এবং কঠিন ছিল, সে কথাও জানান শ্রেয়া। তিনি আরো জানান,
এটা কেবল পারফরম্যান্স ছিল না, ছিল কড়া পরীক্ষা। প্রথমে ফর্ম জমা দেওয়ার পর শর্টলিস্টেড প্রার্থীদের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্র্যাক্টিক্যাল পরীক্ষা নেওয়া হয়। প্যানেলে ছিলেন কলাক্ষেত্রের পাশ আউট ৫-৬ জন বিশেষজ্ঞ বিচারক। সম্পূর্ণ অপরিচিত একটা পরিবেশ এবং ইংরেজি ভাষায় পরীক্ষা হওয়ায় শুরুতে আমি বেশ ভয়ে এবং চিন্তায় ছিলাম। তবে নিজের সেরাটা দিতে পেরেছি।
এর আগেও একবার এই বৃত্তির জন্য পরীক্ষা দিয়েছিলেন শ্রেয়া। সেবার সাফল্য আসেনি। হাল না ছেড়ে নিজের সাধনা জারি রেখেছিলেন তিনি। আর তাই দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় প্রথমবার এই জাতীয় স্কলারশিপ পেয়ে পুরুলিয়ার এই ভরতনাট্যম শিল্পী জেলাকে এক অনন্য গৌরবের আসনে বসালেন।