নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
তীব্র দাবদাহ আর ভ্যাপসা গরমে কয়েক দিন ধরেই কার্যত হাঁসফাঁস করছিল পুরুলিয়া। অবশেষে শুক্রবার বিকেলে কালবৈশাখীর ঝড়-বৃষ্টিতে জেলার বেশ কিছু অংশে মিলল কিছুটা স্বস্তি। যদিও সেই স্বস্তির বৃষ্টির সঙ্গেই এল ঝড়ের তাণ্ডব, দুর্ভোগ ও ক্ষয়ক্ষতির ছবিও।
২২ মে জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৯.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৫.০ ডিগ্রি। দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে সকাল থেকেই অস্বস্তিকর গরম অনুভূত হচ্ছিল।
বিকেলের দিকে আচমকাই বদলে যায় আবহাওয়া। কালো মেঘে ঢেকে যায় আকাশ। শুরু হয় দমকা হাওয়া, বজ্রবিদ্যুৎ এবং ঝড়-বৃষ্টি। কৃষি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার গড় বৃষ্টিপাত হয়েছে ২.৫২ মিলিমিটার। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে কাশিপুরে—২৫.৪ মিমি। পাড়ায় ৭.৪ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। জেলার বাকি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলিতে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টি হয়নি।
তবে এই বৃষ্টির সঙ্গে আসা ঝড়ের জেরে একাধিক জায়গায় দুর্ভোগের চিত্র সামনে এসেছে। হুড়ার হাটতলায় ঝড়ে গাছ ভেঙে পড়ে পুরুলিয়া–বাঁকুড়া ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর। তার জেরে দীর্ঘক্ষণ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।
অন্যদিকে মানবাজারের কাশিডি এলাকায় ঝড়ের দাপটে একটি ঝুমুর গানের অনুষ্ঠানের স্টেজ ভেঙে পড়ে। সৌভাগ্যবশত, এই ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর মেলেনি।
এ দিকে গরমের আচমকা দাপটে জেলার বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকায় তীব্র পানীয় জলের সংকটও দেখা দিয়েছে। পুরুলিয়া ১, আড়শা এবং অযোধ্যা পাহাড় সংলগ্ন বহু গ্রামে নদীর শুকনো বুক থেকে বালি খুঁড়ে জল সংগ্রহ করতে দেখা যাচ্ছে মহিলাদের। দাবদাহের সঙ্গে জলসংকট পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
চলতি মে মাসের প্রথম দিকে টানা কালবৈশাখীর কারণে গরমের দাপট কিছুটা নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু গত কয়েক দিনে আর্দ্রতাজনিত ভ্যাপসা গরমে কার্যত নাজেহাল হয়ে পড়েছিলেন জেলাবাসী। শুক্রবারের এই ঝড়-বৃষ্টি সেই পরিস্থিতি থেকে সাময়িক স্বস্তি এনে দিলেও, ভোগান্তি চলবেই।