রাজনীতি শহর

তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে আবাস যোজনার টাকায় কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ

অভিযোগের তীর সরাসরি ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর বিভাস রঞ্জন দাস ও তাঁর এক ঘনিষ্ঠ অনুগামীর দিকে। যদিও শাসকদলের ওই নেতার দাবি, সরকারি টাকা আত্মসাৎ করতে এখন তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হচ্ছে।
তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে আবাস যোজনার টাকায় কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:


আবাস যোজনার টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢুকতেই তাতে থাবা বসিয়েছে কাটমানি সিন্ডিকেট। আর তাই আবাস যোজনায় প্রথম কিস্তির টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢুকলেও বাড়ির কাজ শুরু হয়নি। পুরুলিয়া পুরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নিমটাড় এলাকার বাসিন্দা শিখা নন্দীর ক্ষেত্রে  ঠিক এমনই এক ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ। আর এই অভিযোগের তীর সরাসরি ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর বিভাস রঞ্জন দাস ও তাঁর এক ঘনিষ্ঠ অনুগামীর দিকে। যদিও শাসকদলের ওই নেতার দাবি, সরকারি টাকা আত্মসাৎ করতে এখন তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হচ্ছে।

ভুক্তভোগী শিখা নন্দী বলেন,"সরকার থেকে ঘর বানানোর জন্য আমার অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির ৭০ হাজার টাকা এসেছিল। কিন্তু টাকাটা আসতেই ৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর বিভাস রঞ্জন দাস এবং তার অনুগামী  সুধাংশু ঘোষাল  এসে আমার থেকে ৩০ হাজার টাকা জোর করে নিয়ে চলে যায়। হাতে মাত্র অল্প কটা টাকা পড়ে রইল, তা দিয়ে এই বাজারে কীভাবে বাড়ির কাজ শুরু করব? আজ পর্যন্ত আমি ঘরটা তৈরি করতে পারলাম না।"

শিখা নন্দীর ছেলে রাজ নন্দী বলেন,"ভোট মিটে যাওয়ার পরেও বিভাস দাসের লোক সুধাংশু ঘোষাল আবার আমাদের বাড়ি এসে আরও টাকার জন্য চাপ দিতে শুরু করে। আমরা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছি যে, আর এক টাকাও দিতে পারব না। ওরা উল্টে আমাদের হুমকি দিচ্ছে। বাধ্য হয়েই আমরা আইনের দ্বারস্থ হয়েছি থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি। আমরা এর বিচার চাই।"

কাউন্সিলরের অনুগামী বলে পরিচিত সুধাংশু ঘোষাল বলেন, "আমার বিরুদ্ধে যে তোলাবাজি বা কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং মিথ্যা। আমি এই ধরনের কোনো ঘটনার সাথেই যুক্ত নই। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাদের নাম জড়ানো হচ্ছে।"
৫নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর বিভাস রঞ্জন দাস বলেন,
"অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য। গত বছরই ওই মহিলার অ্যাকাউন্টে সরকারি টাকা ঢুকেছিল, কিন্তু উনি আজ পর্যন্ত বাড়ির কাজ শুরু করেননি। সরকারি টাকা আত্মসাৎ করার একটা ছক কষেছেন উনি। প্রশাসন ও মহকুমা শাসক এই নিয়ে তদন্ত শুরু করতে চলেছে আঁচ পেয়েই, নিজেদের বাঁচাতে এখন আমার ওপর দোষ চাপাচ্ছেন। আমি চাই পুলিশ ওই মহিলার বক্তব্যের তদন্ত করুক, যাতে সত্যিটা সামনে আসে।"