সুইটি চন্দ্র ও শুভদীপ মাহাতো, পুরুলিয়া:
মাধ্যমিকের মেধাতালিকায় ফের উজ্জ্বল পুরুলিয়া। জেলার মোট ৯ জন জায়গা করে নিল রাজ্যের প্রথম দশে। তার মধ্যে কার্যত একাই বাজিমাত করেছে পুরুলিয়া রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাপীঠ।
রাজ্যে সপ্তম স্থান অর্জন করেছে এই বিদ্যাপীঠের অভিনব প্রতিহার। তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৯১, শতাংশের হিসেবে ৯৮.৭১।
নবম স্থানে যুগ্মভাবে রয়েছে এই শিক্ষায়তনের বোধিসত্ত্ব ঘোষ ও সৌম্য সরকার। দু’জনেরই প্রাপ্ত নম্বর ৬৮৯। শতাংশ ৯৮.৪৩। দশম স্থানেও জেলার দাপট স্পষ্ট। মেধাতালিকায় জায়গা করে নিয়েছে দেব পাল, অর্কপ্রভ চক্রবর্তী, আদিত্য রাজ ও শিবম আনন্দ। চার জনই পুরুলিয়া রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাপীঠ-এর ছাত্র। এ ছাড়াও দশম স্থানে রয়েছে চিত্তরঞ্জন হাই স্কুল-এর ছাত্র রুদ্রদীপ মণ্ডল এবং শান্তময়ী বালিকা বিদ্যালয়-এর ছাত্রী মৌনালি মণ্ডল।
সপ্তম স্থান অধিকার করেছে রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাপীঠের ছাত্র অভিনব প্রতিহার । টেলিফোনে সে জানায়,
"এই সাফল্য পেয়ে খুবই খুশি । পরিশ্রম করেছি ফল পেয়েছি । এই সাফল্যের পেছনে সব থেকে বেশি অবদান রয়েছে স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং বাকি শিক্ষকদের। তাছাড়াও বাবা ও মায়ের ভূমিকাও রয়েছে। এরপর মেডিকেল নিয়ে পড়তে চাই। ডাক্তার হবার ইচ্ছে আছে। পড়াশোনার পাশাপাশি গল্পের বই পড়তে এবং ফুটবল খেলতে ভালবাসি।"
দশম স্থান অধিকার করেছে পুরুলিয়া চিত্তরঞ্জন বয়েজ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র রুদ্রদীপ মন্ডল। সে বলে, "মেধা তালিকায় যে স্থান পাব, সেটা আশা ছিল না, ভালো রেজাল্ট করবো সেই আশা ছিল। এরপর ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়ার ইচ্ছা আছে । বড় হয়ে গবেষণার দিকে যাবার ইচ্ছা আছে । প্রত্যেকটা বিষয়ে আলাদা আলাদা টিউশন ছিল। যেগুলোতে দুর্বলতা ছিল সেই কিছু কিছু বিষয়ে দুটো করে টিউশন ছিল। পড়াশোনার পাশাপাশি ছবি আঁকতে ভালো লাগতো। এই সাফল্যের পিছনে শিক্ষকদের অবদান সবথেকে বেশি এবং মা বাবা সাহায্য করেছেন।"
রুদ্রদীপের মা বাণী মন্ডল বলেন,
" ছেলের এই সাফল্যে খুবই খুশি। পরিশ্রম করেছে। চেষ্টা করেছে। ওর সাথে সব সময় শিক্ষকরা ছিলেন। পড়াশুনার সময় সেরকম বাঁধাধরা কিছু ছিল না। যখন মন যেত তখনই পড়াশোনা করত। ছবি আঁকতে খুবই ভালোবাসে"।
রুদ্রদীপের বাবা সুজিত কুমার মন্ডল বলেন, "খুবই ভালো লাগছে। ও নিজেও প্রচুর পরিশ্রম করেছে। তাছাড়া বিদ্যালয়ের মাস্টারমশাইরা খুবই সাহায্য করেছেন। যারা টিউটর তারাও প্রচুর সাহায্য করেছেন এবং অভিভাবক হিসেবে যতটা সাহায্য করা যায় আমরাও ততটা করেছি। ছেলে যে দিকে যেতে চাইবে, সে দিকেই চেষ্টা করব তাকে নিয়ে যাওয়ার,তাকে সহযোগিতা করার। ছোট থেকে খেলাধুলা করলেও যখন উঁচু ক্লাসে উঠে যায় তখন পড়াশোনার প্রতি বেশি মনোযোগ দেয় এবং তার পাশাপাশি আঁকতে ভালোবাসে। বেশিরভাগ সময় চেষ্টা করত যাতে পড়াশোনার মধ্যে থাকতে পারে"।
চিত্তরঞ্জন বয়েজ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক বিবেকানন্দ চট্টোপাধ্যায় বলেন, "রুদ্রদীপ মন্ডল রাজ্যে দশম স্থান অধিকার করেছে। আমাদের স্কুলে ও ক্লাস ফাইভ থেকেই পড়ছে।
ছাত্রের মেধা এবং পরিশ্রম ও স্কুলের পঠন পাঠন, এইসব মিলে এই সাফল্য।"
রাজ্যের মেধা তালিকায় দশম স্থান অধিকার করেছে শান্তময়ী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী মৌনালি মন্ডল। সে জানায়," কিছুটা আশা করেছিলাম এই ফলের। ৬ ঘন্টা পড়াশোনা করতাম। ভবিষ্যতে গবেষণা নিয়ে এগোবার ইচ্ছা আছে। পড়াশোনার পাশাপাশি গল্পের বই পড়তে ভালবাসি। স্কুলের শিক্ষিকা এবং মা-বাবার অবদান এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে"।
মৌনালির বাবা মহেশ্বর মন্ডল বলেন, "আশা একটা ছিলই । পড়াশোনায় ভালো ছিল। শান্তময়ী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে ক্লাস ফাইভ থেকে পড়ছে। ওকে পড়াশোনার জন্য বলতে হতো না পড়া ঠিক করে নিত"।
মৌনালির মা সুনিতা মন্ডল বলেন,"আশা একটা করেছিলাম। মেয়েকে সময় দিতে ঠিক পারি না আমি নিজেও কাজ করি। মেয়ে নিজেই পড়াশোনা করে। পড়াশোনায় ও ভালো। মেধাবী"।
ফল প্রকাশের পর থেকেই জেলার বিভিন্ন প্রান্তে খুশির হাওয়া। বিশেষ করে পুরুলিয়া রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাপীঠ-এ সকাল থেকেই শুরু হয়েছে শুভেচ্ছার ঢল।