সুইটি চন্দ্র, পুরুলিয়া:
জঙ্গলমহল এবং সমগ্র বাংলার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে তীব্র আক্রমণ করলেন পুরুলিয়ার বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো। বিজেপির অন্দরে এখন তাঁর ডাকনাম 'জয়ের কাণ্ডারী জ্যোতির্ময়।' কুড়মালি ভাষা অষ্টম তফসিলভুক্ত করার দাবি সামনে রেখে কুড়মি সমাজের ভোট বিজেপির দিকে সুইং করানোর ক্রেডিট তাঁকেই দিচ্ছে বিজেপি শিবির। দলের অন্দরে তীব্র ক্ষোভ ছিলো, নিজের পছন্দের প্রার্থী করেছেন তিনি। ৯-এ ৯ ফলাফলের পর সেই প্রার্থী নির্বাচনকেই মাস্টার স্ট্রোক বলা হচ্ছে। দলের রাজ্য মহল তো বটেই, দিল্লির দরবারেও বেড়েছে জ্যোতির্ময়ের কদর। মোদি-শাহের সঙ্গে এক তালিকায় এই ভোটে তিনিও ছিলেন বিজেপির স্টার প্রচারক। পুরুলিয়াকে তৃণমূল শূন্য করার পর তিনি তৃণমূল কংগ্রেস বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন।
সাংসদ জ্যোতির্ময়ের দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বাংলায় রাজনৈতিক পরিবর্তন হয়েছে। তিনি বলেন, "শুধু জঙ্গলমহল নয়, দার্জিলিং থেকে শুরু করে রাজ্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাব হাপিস। তাঁর কথায়, বাংলার মানুষ ইতিমধ্যেই তাদের রায় দিয়ে দিয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে জঙ্গলমহলের প্রতিটি এলাকায় ঘুরে ঘুরে প্রচার করেছিলেন মমতা ব্যানার্জি এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই প্রচারের ফল মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে বলেই তাঁর দাবি। পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অভিষেক আগে বড় বড় চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিলেন, কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি।
জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো আরও বলেন, “মানুষ এখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে খুঁজছে। তিনি এত বড় বড় কথা বলেছিলেন, এখন সামনে এসে তার জবাব দিন।” একই সঙ্গে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, "ডায়মন্ড হারবারে এবার অন্তত ৫০টি আসন জিতে দেখাতে হবে অভিষেককে"।
নিজের বক্তব্যে তিনি এ-ও উল্লেখ করেন যে, অভিষেকের নিরাপত্তার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে, যাতে তার কোনো ক্ষতি না হয়। তবে রাজনৈতিক ময়দানে তাকে সামনে এসে জবাব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।