নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
রাজ্যে পালাবদলের পর থমকে গেছে পুরুলিয়া জেলা পরিষদের উন্নয়ন? নির্বাচন পর্ব মিটে গেলেও এখনও পর্যন্ত বিভিন্ন দপ্তরের কাজ থমকে, বলে অভিযোগ জেলা পরিষদের তৃণমূল পরিচালিত বোর্ডের। বর্তমানে ৪৫ সদস্যের পুরুলিয়া জেলা পরিষদে তৃণমূলের সদস্য সংখ্যা ছিলো ৪৪। একজন সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। একজন বিজেপি সদস্য রয়েছেন। জেলা পরিষদে সভাধিপতি, সহ- সভাধিপতি ছাড়াও পদে আসীন ৯ জন কর্মাধ্যক্ষ।
পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি নিবেদিতা মাহাতো বলেন, “নির্বাচনের পরে এখনও অনেক প্রশাসনিক কাজ আটকে রয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্পের ওয়ার্ক অর্ডার ও টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করা যাচ্ছে না। বিষয়টি আমরা জেলা শাসকের নজরে এনেছি।”
পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আচরণবিধি উঠে যাওয়ার পরেও স্বাভাবিক প্রশাসনিক কাজ শুরু হয়নি। আমরা চাই উন্নয়নের কাজ দ্রুত চালু হোক। বোর্ড নিয়ে অযথা অনিশ্চয়তা তৈরি হলে মানুষের মধ্যেই ভুল বার্তা যাবে।”
বিজেপি রাজ্য কমিটির সদস্য বিবেক রাঙ্গা বলেন,
“মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে। উন্নয়নের কাজ বন্ধ থাকবে না। প্রশাসনে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনাই এখন প্রধান লক্ষ্য।”
এদিকে ডামাডোলের মধ্যে তৃণমূলও। এর মধ্যেই রবিবার মুখ্যমন্ত্রীর ডাকা বৈঠকে ছয়জন কর্মাধ্যক্ষ অনুপস্থিত ছিলেন। তাঁরা হলেন হংসেশ্বর মাহাতো, সুমিতা সিং মল্ল, নীলাঞ্জনা পট্টনায়ক চট্টোপাধ্যায়, নমিতা সিং মুড়া, শিবানী মাহাতো এবং অজিত বাউরি।
জেলার পর্যালোচনা বৈঠকেও অনুপস্থিত ছিলেন দুই কর্মাধ্যক্ষ অজিত বাউরি ও নমিতা সিং মুড়া। সোমবার জেলা পরিষদের একটি আলাদা বৈঠক ছিলো। সেখানে অনুপস্থিত ছিলেন কর্মাধ্যক্ষ ও সদস্য মিলিয়ে জনা দশেক। এই অনুপস্থিতি ঘিরেও জেলা পরিষদের অন্দরে জল্পনা তৈরি হয়েছে। কেমন যেন ছন্নছাড়া ভাব তৃণমূলের মধ্যে। তাহলে কি পরাজয়ের আফটার শকেই হচ্ছে এমন দশা?