স্বাস্থ্য ব্লক

কানের সংক্রমণ থেকে মাথায় পুঁজ, জটিল অপারেশনে শিশুর প্রাণ বাঁচালো পুরুলিয়া মেডিকেল কলেজ

কানের পুঁজ জমে গিয়েছিল মাথায়। সাত বছরের শিশুকে নিয়ে যমে মানুষে টানাটানি। চারিদিকে যখন একের পর এক নিরাশা, বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেও যখন মিলছিল না কোনো দিশা, ঠিক তখনই এক চরম মানবিক ও অভাবনীয় সাফল্যের নজির গড়ল পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল।
কানের সংক্রমণ থেকে মাথায় পুঁজ, জটিল অপারেশনে শিশুর প্রাণ বাঁচালো পুরুলিয়া মেডিকেল কলেজ

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:

কানের পুঁজ জমে গিয়েছিল মাথায়। সাত বছরের শিশুকে নিয়ে যমে মানুষে টানাটানি। চারিদিকে যখন একের পর এক নিরাশা, বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেও যখন মিলছিল না কোনো দিশা, ঠিক তখনই এক চরম মানবিক ও অভাবনীয় সাফল্যের নজির গড়ল পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। 
বাঘমুণ্ডি থানার দুমদুমি গ্রামের বাসিন্দা লছমন প্রজাপতি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ  তাঁর সাত বছরের সন্তানকে নিয়ে প্রথমে বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করান।
এক মাস ধরে চলা এক চরম উৎকণ্ঠার অবসান ঘটিয়ে, মৃত্যুর মুখ থেকে সেই সাত বছরের শিশুকে ফিরিয়ে আনলেন হাসপাতালের ইএনটি  বিভাগের চিকিৎসকেরা। কানের সংক্রমণ থেকে মাথায় পুঁজ জমে যাওয়া এক অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচার সফল করে জঙ্গলমহলের সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর ভরসা এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়িয়ে দিল এই ঘটনা।

চিকিৎসকেরা প্রাথমিক পরীক্ষাতেই বুঝতে পারেন, শিশুটির কানের সংক্রমণ অত্যন্ত জটিল আকার নিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কান দিয়ে পুঁজ বের হচ্ছিল। এরপর একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলে ধরা পড়ে, সংক্রমণ কান ছড়িয়ে মাথার ভিতরে পুঁজ জমে গিয়েছে। শুধু তাই নয়, কানের পাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাড়ও সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দ্রুত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকেরা।  

ইএনটি বিভাগের চিকিৎসক
ডাঃ সোহম ব্যানার্জি  বলেন, “এই ধরনের অস্ত্রোপচার অত্যন্ত জটিল এবং ঝুঁকিপূর্ণ। সমগ্র পশ্চিমবঙ্গেই খুব কম সংখ্যক এমন অপারেশন হয়েছে। আমাদের টিমের সকল চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে। শিশুটি এখন আগের থেকে অনেক ভালো আছে, এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”

রোগীর বাবা বলেন,“অনেক জায়গায় চিকিৎসা করিয়েও কোনও ফল পাইনি। শেষ পর্যন্ত এখানকার ডাক্তাররাই আমাদের সন্তানকে নতুন জীবন দিলেন।”