নিজস্ব প্রতিনিধি , পুরুলিয়া
চমক দিতে তিনি বরাবরই ভালবাসেন। তবে এবারের চমক যেন মাত্রাছাড়া। সমাজ মাধ্যমে ২৫ বৈশাখে করা তাঁর সাম্প্রতিক পোস্ট ঘিরে পুরুলিয়ার রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। এদিনই ব্রিগেড ময়দানে শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করেছে বিজেপি সরকার। আর এদিনই ওই পোস্টে জেলা বিজেপি নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়।
দীর্ঘ পোস্টে সুজয় লিখেছেন, নির্বাচনের ফল যা-ই হোক না কেন, ভোট-পরবর্তী সময়ে পুরুলিয়ার শান্তি, সম্প্রীতি ও সামাজিক সৌহার্দ্য বজায় রাখতে জেলা বিজেপি নেতৃত্ব “পরিণত, দায়িত্বশীল ও উদার মানসিকতার” পরিচয় দিয়েছে। সেই জন্য তিনি তাঁদের প্রতি “আন্তরিক কৃতজ্ঞতা” জানিয়েছেন।
পোস্টে বিশেষ ভাবে উল্লেখ করেছেন পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো, জেলা বিজেপির সভাপতি শংকর মাহাতো এবং প্রাক্তন জেলা সভাপতি বিদ্যাসাগর চক্রবর্তীর নাম। তাঁদের নেতৃত্বে বিজেপি সংগঠন জেলার পরিবেশ শান্ত ও স্বাভাবিক রাখতে কাজ করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এমনকি, “সাম্প্রদায়িক উস্কানি বা বিভাজনের রাজনীতিকে প্রশ্রয় দেননি” বলেও বিজেপি নেতৃত্বের প্রশংসা করেন সুজয়।
শুধু তাই নয়, কিছু “উগ্র কর্মী”-র দ্বারা জোর করে দখল হওয়া দলীয় কার্যালয় ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে বিজেপির ভূমিকা রাজনৈতিক সৌজন্য ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের “উজ্জ্বল উদাহরণ” বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
এতেই থামেননি সুজয়। জেলার রাস্তা, জল, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান-সহ নানা ক্ষেত্রে অসম্পূর্ণ উন্নয়নের কাজ বিজেপি নেতৃত্বের হাত ধরে বাস্তবায়িত হবে বলেও আশাপ্রকাশ করেছেন।
রাজনৈতিক শিবিরে এই পোস্টকে কেন্দ্র করে নানা ব্যাখ্যা ঘুরছে। অনেকের প্রশ্ন, সুজয় কি তবে রাজনৈতিক অবস্থান বদলের ইঙ্গিত দিলেন? যদিও এ নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে কিছু বলেননি।
সমাজমাধ্যমে পোস্টটি ঘিরে প্রতিক্রিয়ার ঝড় ওঠে। এক জন লিখেছেন, “আপনার দল ক্ষমতায় এলে, এমন পরিবেশ হতো কি?” অন্য এক জনের মন্তব্য, “সুযোগ বন্দ্যোপাধ্যায় পালটি মারার ধান্দায়।” আবার আর এক জন কটাক্ষ করে লিখেছেন, “বিজেপি আপনাকে নেবে না। উপরমহলের নির্দেশ।”
আসলে, ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে প্রতিপক্ষকে প্রকাশ্যে ধন্যবাদ জানানোর ঘটনা বিরল। তাই সুজয়ের এই পোস্ট নিছক সৌজন্য, না কি ভবিষ্যতের কোনও রাজনৈতিক বার্তা, তা নিয়েই এখন জোর চর্চা চলছে জেলার রাজনৈতিক মহলে।