শিক্ষা ব্লক

মাধ্যমিকে বোর্ড ফার্স্ট আদিবাসী কন্যাকে সম্বর্ধনা নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতির

২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষায় সাঁওতালি মাধ্যমে রাজ্যে সম্ভাব্য প্রথম স্থান অধিকার করেছে কাশিপুর ব্লকের লোহাট হাই স্কুলের ছাত্রী কুনামি কিস্কু। তার এই অভাবনীয় লড়াইকে কুর্নিশ জানাতে এবং ভবিষ্যতের পড়াশোনায় সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিতে বুধবার কুনামির বাড়ি পৌঁছে গেল নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতি ।
মাধ্যমিকে বোর্ড ফার্স্ট আদিবাসী কন্যাকে সম্বর্ধনা নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতির

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:

পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ নেই, ল্যাবরেটরি বা লাইব্রেরির সাহায্য তো দূর অস্ত, সময়মতো জোটে না পাঠ্যবইও! রাজ্যে সাঁওতালি মাধ্যমের শিক্ষাব্যবস্থার এমন পরিকাঠামোকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নজিরবিহীন সাফল্য ছিনিয়ে নিল পুরুলিয়ার এক আদিবাসী কন্যা। ২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষায় সাঁওতালি মাধ্যমে রাজ্যে সম্ভাব্য প্রথম স্থান অধিকার করেছে কাশিপুর ব্লকের লোহাট হাই স্কুলের ছাত্রী কুনামি কিস্কু। তার এই অভাবনীয় লড়াইকে কুর্নিশ জানাতে এবং ভবিষ্যতের পড়াশোনায় সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিতে বুধবার কুনামির বাড়ি পৌঁছে গেল নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতি ।

সাঁতুড়ি ব্লকের জিওলগড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা কুনামি কিস্কু লোহাট হাই স্কুল থেকে সাঁওতালি মাধ্যমে পরীক্ষা দিয়ে এবার ৬১১ নম্বর পেয়েছে। এখনও পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সে-ই সাঁওতালি মাধ্যমে রাজ্যে সর্বোচ্চ নম্বরের অধিকারী।

কিন্তু এই সাফল্যের পথটা মোটেও মসৃণ ছিল না। যে স্কুল থেকে কুনামি পড়াশোনা করেছে, সেই লোহাট হাই স্কুলের পরিকাঠামোর চিত্রটি অত্যন্ত ভয়াবহ। স্টাফ রুম ও অফিস ঘর মিলিয়ে গোটা স্কুলে ঘর রয়েছে মাত্র ৪টি। এই চারটি ঘরের মধ্যেই ভাগাভাগি করে চলে পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগ সহ পঠনপাঠন।
স্কুলে কোনো স্থায়ী শিক্ষক নেই। ১৪৯ জন পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ টিকে রয়েছে মাত্র ৫ জন পার্শ্ব শিক্ষকের ভরসায়। বর্তমানে কাঠ রাঙ্গুনি স্কুলের শিক্ষক শ্রদ্ধানন্দ হাঁসদা সাময়িকভাবে এই স্কুলে ডেপুটেশনে রয়েছেন।

জানা গেছে, পুরুলিয়া জেলা জুড়ে মোট ৬টি সাঁওতালি মাধ্যমের স্কুল রয়েছে সাঁতুড়িতে ৩টি, কাশিপুরে ২টি এবং বান্দোয়ানে ১টি। প্রতিটি স্কুলেরই দশা লোহাট হাই স্কুলের মতোই জরাজীর্ণ। শিক্ষকের অভাব এবং সময়মতো বই না পাওয়ার চেনা যন্ত্রণাই এখানকার পড়ুয়াদের নিয়তি। আর এই অন্ধকার ব্যবস্থার মধ্যেই আলোর দিশারী হয়ে উঠেছে কুনামি।

এই অদম্য মেধাকে কুর্নিশ জানাতে বুধবার কুনামির জিওলগড়িয়া গ্রামের বাড়িতে হাজির হন নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতির পুরুলিয়া জেলা শাখার প্রতিনিধিরা। সংগঠনের পক্ষ থেকে কুনামির হাতে শংসাপত্র, পুষ্পস্তবক, বই, পেন ও মিষ্টির প্যাকেটসহ বিভিন্ন উপহার তুলে দিয়ে তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের জেলা সম্পাদক ব্যোমকেশ দাস, জেলা সহ সম্পাদক অনির্বাণ সরকার, বিপ্লব ব্যানার্জী ও ফাল্গুনী কুণ্ডু, 
কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুলেখা বাউরী,
জেলা নেতা জলধর কর্মকার, প্রফুল্ল টুডু, বৈদ্যনাথ মুর্মু প্রমুখ।

সমিতির জেলা নেতৃত্বের পক্ষ থেকে কুনামির আগামী দিনের পথচলার সাফল্য কামনা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, পরিকাঠামোর অভাব বা আর্থিক অনটন যাতে এই প্রতিভার পথ রোধ করতে না পারে, তার জন্য পড়াশোনা সংক্রান্ত যে কোনো সমস্যায় নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতি কুনামির পাশে থাকবে।