রাজনীতি ব্লক শহর

পার্টি অফিস দখল, তালাবন্ধ পঞ্চায়েত, উধাও কর্মীরা, গেরুয়া ঝড়ে ছন্নছাড়া তৃণমূল শিবির

সোমবারের গেরুয়া ঝড় কার্যত ছন্নছাড়া করে দিয়েছে তৃণমূল শিবিরকে। মঙ্গলবার সকাল থেকে জেলার অধিকাংশ তৃণমূল কার্যালয়েই ঝুলছে তালা। শহরের দুলমি এলাকায় অবস্থিত জেলা তৃণমূল কার্যালয়, যা একসময় কর্মী-সমর্থকদের ভিড়ে সরগরম থাকত, এখন সম্পূর্ণ ফাঁকা।
পার্টি অফিস দখল, তালাবন্ধ পঞ্চায়েত, উধাও কর্মীরা, গেরুয়া ঝড়ে ছন্নছাড়া তৃণমূল শিবির

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া ও কাশিপুর:

সোমবারের গেরুয়া ঝড় কার্যত ছন্নছাড়া করে দিয়েছে তৃণমূল শিবিরকে। মঙ্গলবার সকাল থেকে জেলার অধিকাংশ তৃণমূল কার্যালয়েই ঝুলছে তালা। শহরের দুলমি এলাকায় অবস্থিত জেলা তৃণমূল কার্যালয়, যা একসময় কর্মী-সমর্থকদের ভিড়ে সরগরম থাকত, এখন সম্পূর্ণ ফাঁকা। ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকা এই কার্যালয়ে নেই কোনো নেতা, কর্মী বা দেখভালের দায়িত্বে থাকা কেউ।এবারের নির্বাচনে পুরুলিয়া জেলার ৯টি বিধানসভার একটিতেও জয় পায়নি তৃণমূল। ফল ঘোষণার আগে দলীয় কার্যালয়গুলিতে কর্মব্যস্ততা থাকলেও হারের পর সেই চিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেছে।এদিকে, কাশিপুর বিধানসভার গৌরাঙ্গডি গ্রাম পঞ্চায়েতেও দেখা যায় এক অন্য ছবি। মঙ্গলবার পঞ্চায়েত অফিসে তালা ঝুলতে দেখা যায় এবং অনুপস্থিত ছিলেন প্রধান জলেশ্বর মুর্মু। ফলে পরিষেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ চরম সমস্যায় পড়েন।
এই পরিস্থিতিতে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপির কাশিপুর মণ্ডল ৩-এর সভাপতি কৃষ্ণ হালদার বলেন, “সারা পশ্চিম বাংলার মানুষের কাছে আমরা এই জয় উৎসর্গ করছি। মোদিজিকে ধন্যবাদ জানাই। গৌরাঙ্গডি পঞ্চায়েত পুরুলিয়া জেলার মধ্যে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত। গতকাল আমরা জয়লাভ করেছি, আর আজ তৃণমূলের নেতারা পালিয়ে গেছেন। প্রধান জলেশ্বর মুর্মুকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সাধারণ মানুষ পরিষেবা নিতে এসে ফিরে যাচ্ছেন। উনি যেদিন থেকে চেয়ারে বসেছেন, সেদিন থেকেই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। আমরা বলতে চাই, যদি পঞ্চায়েত চালাতে না পারেন, তাহলে পদত্যাগ করুন এবং নতুন করে ভোট হোক, যাতে মানুষ সঠিক পরিষেবা পায়। আমরা কাউকে ভয় দেখাইনি, তৃণমূল নিজেরাই ভয় পেয়েছে।”
অন্যদিকে, শহরের আমডিহা এলাকায় একটি বন্ধ তৃণমূল কার্যালয়ে বিজেপির পতাকা লাগানোর অভিযোগ উঠেছে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে, যা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক।