সুইটি চন্দ্র ও শুভদীপ মাহাতো, বলরামপুর :
২০১৮ সাল। রাজ্যে তখন তৃণমূল সরকার। আর আজ ২০২৬-এর ৯ই মার্চ। মাঝে কেটে গেছে দীর্ঘ আটটা বছর। আজ রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল ঘটেছে। কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। একদিকে যখন নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের উৎসব, ঠিক তখনই পুরুলিয়ার রুখামাটিতে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে আট বছর ধরে জমে থাকা আক্ষেপ আর কান্নার আওয়াজ। নতুন সরকারের কাছে সুবিচার পাওয়ার আশায় বুক বাঁধছে জঙ্গলমহল।
ফিরে যাওয়া যাক ২০১৮ সালের সেই অভিশপ্ত দিনগুলোতে। মে মাসের শেষ আর জুনের শুরু। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে জোড়া খুনে কেঁপে উঠেছিল পুরুলিয়ার বলরামপুর। সুপুরডি গ্রামের ২১ বছরের ত্রিলোচন মাহাতো এবং ডাভা গ্রামের ৩০ বছরের দুলাল কুমার। দুজনেই তরতাজা যুবক, দুজনেই বিজেপি কর্মী। এবং দুজনেরই গলায় ফাঁস দেওয়া ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছিল। ঠিক কী ঘটেছিল সেসময়?
ত্রিলোচনের বাবা হাঁড়িরাম মাহাতো বলেন, " ছেলেটার ছবি দেখলেই মনটা হু হু করে ওঠে। কত কষ্ট করে যে ছেলেটাকে মানুষ করেছিলাম। কলেজে ভর্তি করেছিলাম। বিজেপি করার জন্য তাকে মেরে ফেলল। আজ বিজেপি সরকারের কাছে আমাদের দাবি, এই ঘটনার কিনারা হোক। যারা এই ঘটনায় দোষী তাদের ফাঁসি চাই। "
সুপুরডি গ্রামের বিজেপি বুথ সভাপতি
ধনঞ্জয় মাহাতো বলেন," আমরা দলকে ক্ষমতায় এনে দিয়েছি। এবার আমাদের বিচার চাই। নাহলে আমরা অন্যরকম আন্দোলন করবো। "
ত্রিলোচনের মর্মান্তিক মৃত্যুর আতঙ্ক তখনও কাটেনি। বলরামপুর যখন ক্ষোভে ফুঁসছে, ঠিক ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে একই চিত্রনাট্যের পুনরাবৃত্তি ঘটে ডাভা গ্রামে।
দুলালের স্ত্রী মনিকা কুমার বলেন, "আজকের এই দিনটার জন্য ৮ বছর ধরে অপেক্ষা করে আছি। মনে হচ্ছে যেন আজ আমার স্বামীর আত্মা শান্তি পেল। তবে এই ঘটনার অবিলম্বে কিনারা চাই। দোষীদের সকলকে ফাঁসি দিতে হবে।"
সেদিনের সেই রাজনৈতিক সন্ত্রাসের বলি হওয়া দুটি পরিবার আজও চোখের জলে সুবিচারের পথ চেয়ে বসে আছে। দীর্ঘ আট বছরের অপেক্ষা। আজ রাজ্যে তাঁদের দলের নতুন সরকার, নতুন মুখ্যমন্ত্রী। ত্রিলোচন আর দুলালের আত্মারা কি এবার শান্তি পাবে? অপরাধীরা কি এবার শাস্তি পাবে? সেই উত্তরের অপেক্ষাতেই এখন গোটা পুরুলিয়াবাসী।