নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
পুরুলিয়ার রুখা জমিতে এবার ফলছে পৃথিবী বিখ্যাত ‘মিয়াজাকি’ আম। আন্তর্জাতিক বাজারে যে আমের দাম কেজি প্রতি প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা, রঘুনাথপুর ১ নম্বর ব্লকের লছমনপুরে এখন সেই আমেরই বাণিজ্যিক চাষ হচ্ছে। শাকাম্বরি গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজের সহযোগী সংস্থা ‘শাকাম্বরি এগ্রো টেক প্রাইভেট লিমিটেড’-এর হাত ধরে হয়েছে এই অসাধ্য সাধন।
রঘুনাথপুরের লছমনপুরে প্রায় ৭০ একর জমি জুড়ে এক বিশাল ‘গ্রিন বেল্ট’ তৈরি করেছে এই শিল্প সংস্থা। আধুনিক প্রযুক্তি এবং সম্পূর্ণ জৈব সার ব্যবহার করে এখানে গড়ে তোলা হয়েছে এক নজরকাড়া বাগান। এই বাগানে মিয়াজাকি ছাড়াও আরও ১২ রকমের আম এবং লেবু, পেয়ারা, পেঁপে, ড্রাগন ফ্রুটসহ ২২ ধরনের ফলের চাষ হচ্ছে। বিন্দু বিন্দু জল ও ফোয়ারা সেচ পদ্ধতির মাধ্যমে রুখা মাটিকে করে তোলা হয়েছে সুজলা-সুফলা।
বিশ্বের সবচেয়ে দামি এই মিয়াজাকি আম দেখতে লালচে বেগুনি রঙের এবং স্বাদে অত্যন্ত মিষ্টি ও রসালো। ফলন ভালো করতে এবং আমের গায়ে যাতে কোনো দাগ না লাগে, তার জন্য গাছে থাকা অবস্থাতেই প্রতিটি আম বিশেষ ভাবে ঢেকে রাখা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে আকাশছোঁয়া দাম হলেও, স্থানীয় মানুষের কথা মাথায় রেখে এই আম ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি করছে সংস্থাটি। ইতিমধ্যেই এই আমের চাহিদা তৈরি হয়েছে কলকাতা, আসানসোল এবং পাশের রাজ্য ঝাড়খণ্ডেও।
এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে শাকাম্বরি গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজের ভাইস প্রেসিডেন্ট মৃত্যুঞ্জয় চট্টোপাধ্যায় বলেন, "মিয়াজাকি ছাড়াও আমাদের ফার্মে আরও ১২ রকম আম চাষ হয়। এছাড়া আরও অন্যান্য ফল ও সবজি রয়েছে"। মূলত শিল্পের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং মাটিকে সবুজ করে তুলতেই এই অভিনব প্রয়াস নিয়েছে সংস্থাটি। চারাগাছ থেকে শুরু করে ফলন, পুরো বিষয়টিতেই এখন তাক লাগিয়ে দিচ্ছে পুরুলিয়ার এই কৃষি বিপ্লব।