রাজনীতি

এবার 'ঘরের অভিভাবকে'র ভূমিকায় তৃতীয় ইঞ্জিন পাখির চোখ , পদ্ম শিবির পুরুলিয়ায় গড়লো কোর কমিটি

দলীয় সূত্রের খবর, কমিটিতে রয়েছেন সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো-সহ জেলার ন’জন বিধায়ক। আছেন জেলা সভাপতি শঙ্কর মাহাতো, প্রাক্তন জেলা সভাপতি বিবেক রাঙ্গা, রাজ্য কমিটির সদস্য বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী, ওবিসি মোর্চার রাজ্যের সহ-সভাপতি সুভাষ মাহাতো, জেলা সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব মুখোপাধ্যায় ও সদানন্দ বাউরি এবং স্টেট কাউন্সিল সদস্য গৌতম রায়।
এবার 'ঘরের অভিভাবকে'র ভূমিকায় তৃতীয় ইঞ্জিন পাখির চোখ , পদ্ম শিবির পুরুলিয়ায় গড়লো কোর কমিটি

নিজস্ব প্রতিনিধি , পুরুলিয়া :

কেন্দ্রে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার। রাজ্যেও এখন পদ্ম শিবিরের শাসন। ফলে পুরুলিয়ায় বিজেপির চোখ এবার তৃতীয় ইঞ্জিনে—ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ও পুরসভা দখলে। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই জেলায় নতুন করে গঠন করা হল বিজেপির কোর কমিটি।

দলীয় সূত্রের খবর, কমিটিতে রয়েছেন সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো-সহ জেলার ন’জন বিধায়ক। আছেন জেলা সভাপতি শঙ্কর মাহাতো, প্রাক্তন জেলা সভাপতি বিবেক রাঙ্গা, রাজ্য কমিটির সদস্য বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী, ওবিসি মোর্চার রাজ্যের সহ-সভাপতি সুভাষ মাহাতো, জেলা সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব মুখোপাধ্যায় ও সদানন্দ বাউরি এবং স্টেট কাউন্সিল সদস্য গৌতম রায়।

সম্প্রতি জেলায় ফিরে কোর কমিটির সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করেন সাংসদ জ্যোতির্ময়। সেখানেই আগামী পুরসভা ও পঞ্চায়েত নির্বাচনকে সামনে রেখে রণকৌশল নির্ধারণ হয় বলে দলীয় সূত্রের দাবি। বিজেপির বক্তব্য, বিধানসভা নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণ করলে জেলার তিনটি পুরসভা, ১৭০টি গ্রাম পঞ্চায়েত, ২০টি পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদের অধিকাংশ আসনেই তারা এগিয়ে রয়েছে। সেই রাজনৈতিক জমিকেই সাংগঠনিক শক্তিতে পরিণত করতে এখন থেকেই ময়দানে নেমেছে পদ্ম শিবির।

যদিও পঞ্চায়েত নির্বাচনের এখনও প্রায় দু’বছর বাকি। তবু প্রস্তুতিতে কোনও খামতি রাখতে চাইছে না বিজেপি। ইতিমধ্যেই মণ্ডল স্তরে শুরু হয়েছে ধারাবাহিক বৈঠক। সেখানে দলীয় কর্মীদের আচরণ ও ভূমিকা নিয়ে বিশেষ বার্তা দিচ্ছেন জেলা সভাপতি শঙ্কর মাহাতো।

দলীয় সূত্রের দাবি, কর্মীদের স্পষ্ট করে বলা হচ্ছে— বিরোধী দলে থাকার সময়কার রাজনৈতিক আচরণ আর এখনকার পরিস্থিতি এক নয়। এখন শাসক দলের দায়িত্ব নিয়ে চলতে হবে। মণ্ডল সভাপতি থেকে শক্তিকেন্দ্রের নেতৃত্ব— সকলকেই ‘ঘরের অভিভাবক’-এর মতো ভূমিকা পালনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এক নেতা বলেন, “সরকার সরকারের মতো চলবে, প্রশাসন প্রশাসনের মতো কাজ করবে এবং দল দলের মতো সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করবে। আগের জমানায় এই সীমারেখা অনেক ক্ষেত্রেই মুছে গিয়েছিল। তার ফলেই নানা দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। বিজেপি সেই পথে হাঁটতে চায় না।”

দলীয় বৈঠকগুলিতে আরও স্পষ্ট করে জানানো হচ্ছে, কোনও ধরনের বেনিয়ম বা দাগ লাগার মতো কাজ বরদাস্ত করা হবে না। সংগঠনকে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির মধ্য দিয়েই এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

কোর কমিটির কাজের ধরনও অনেকটাই নির্দিষ্ট করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, জেলার উন্নয়নের স্বার্থে বিভিন্ন সরকারি দফতরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করবেন সদস্যেরা। এক এক জনের উপর এক একটি দফতরের দায়িত্ব থাকবে। প্রতি মাসের ১ থেকে ৫ তারিখের মধ্যে কোর কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা। তবে জরুরি পরিস্থিতিতে সেই সময়সূচি বদলও হতে পারে।