অন্যান্য টুকরো খবর

প্রধানমন্ত্রীর ডাকে জ্বালানি বাঁচাতে মুখ্যমন্ত্রীর সভায় যোগ দিতে বাসে করে গেলেন ডিএম সহ আমলারা

বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরে আয়োজিত মুখ্যমন্ত্রীর হাইপ্রোফাইল প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে আলাদা আলাদা বিলাসবহুল গাড়ি ছেড়ে, একসাথে বাসে চড়ে রওনা দিলেন জেলার শীর্ষ আমলারা। জেলাশাসক থেকে শুরু করে বিডিও একই বাসের যাত্রী হয়ে দুর্গাপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
প্রধানমন্ত্রীর ডাকে জ্বালানি বাঁচাতে মুখ্যমন্ত্রীর সভায় যোগ দিতে বাসে করে গেলেন ডিএম সহ আমলারা

 


সুইটি চন্দ্র, পুরুলিয়া:

জ্বালানি সাশ্রয় এবং প্রশাসনিক খরচ কমানোর লক্ষ্যে রাজ্য ও কেন্দ্রের জোড়া নির্দেশিকাকে মান্যতা দিয়ে এক অভিনব নজির গড়ল পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরে আয়োজিত মুখ্যমন্ত্রীর হাইপ্রোফাইল প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে আলাদা আলাদা বিলাসবহুল গাড়ি ছেড়ে, একসাথে বাসে চড়ে রওনা দিলেন জেলার শীর্ষ আমলারা। জেলাশাসক থেকে শুরু করে বিডিও একই বাসের যাত্রী হয়ে দুর্গাপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

এই প্রসঙ্গে পুরুলিয়ার জেলাশাসক সুধীর কোন্থম বলেন, "প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর কাছে আহ্বান রেখেছেন জ্বালানির খরচ কমাতে হবে। তাছাড়া রাজ্যের মুখ্যসচিবেরও সরকারি গাড়ির ব্যবহার কমানোর নির্দেশ রয়েছে। আমরা সেই নির্দেশকে অক্ষরে অক্ষরে পালন করতেই সমস্ত আধিকারিকরা একসাথে বাসে চড়ে দুর্গাপুরে মুখ্যমন্ত্রীর উন্নয়ন বৈঠকে যোগ দিতে যাচ্ছি। আমাদের এই কাজের মধ্য দিয়ে শুধু যে রাজ্যের নির্দেশ পালন করা হচ্ছে তা-ই নয়; দেশের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া জ্বালানি সাশ্রয়ের বার্তাটিকেও একেবারে নিচুস্তরে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া আমাদের উদ্দেশ্য।"

বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টা নাগাদ পুরুলিয়া জেলা প্রশাসনিক ভবন চত্বরে এক নজিরবিহীন দৃশ্য দেখা যায়। জেলাশাসক সুধীর কোন্থম, অতিরিক্ত জেলাশাসক, মহকুমাশাসক এবং বিভিন্ন ব্লকের বিডিও-রা ব্যক্তিগত সরকারি গাড়ি ব্যবহার না করে, একসাথে দুটি বাসে উঠে পড়েন। একইভাবে পুলিশ প্রশাসনের কর্তারাও নিজেদের গাড়ির সংখ্যা একধাক্কায় কমিয়ে সমবেতভাবে ওই বৈঠকের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সম্প্রতি কলকাতার বুকে বিধায়কদের বিধানসভায় বাসে চড়ে আসতে দেখা গিয়েছিল, এবার জেলা স্তরেও প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে ‘অভিনব’ বলে মনে করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর দুটো নাগাদ দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারের ‘সৃজনী প্রেক্ষাগৃহে’ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পৌরোহিত্যে পশ্চিমাঞ্চলের ৫টি জেলার পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব বর্ধমান ও বীরভূম একটি মেগা উন্নয়ন বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।

বৈঠকে ৫ জেলার সাধারণ ও পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিক, বিডিও এবং ওসি-আইসিদের পাশাপাশি উপস্থিত থাকবেন স্থানীয় বিধায়ক ও সাংসদরাও।

চলতি মাসের ১৮ তারিখ রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়াল জেলা প্রশাসনগুলিকে সরকারি গাড়ির যথেচ্ছ ব্যবহার কমানো সহ প্রশাসনিক খরচ সাশ্রয়ের মোট ৭ দফা নির্দেশিকা দিয়েছিলেন।
এই নির্দেশিকার প্রেক্ষিতে ২০২৬-২৭ আর্থিক বছরের জন্য প্রতিটি জেলা ও সরকারি বিভাগকে ‘তাৎক্ষণিক, মধ্যবর্তী এবং দীর্ঘমেয়াদি অ্যাকশন প্ল্যান’ তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনিক সূত্রে খবর, এই অ্যাকশন প্ল্যান রিপোর্টটি তৈরি করে আগামীকাল, অর্থাৎ শুক্রবারের মধ্যেই মুখ্যসচিবের দপ্তরে জমা দিতে হবে। এখানেই শেষ নয়, আগামী ১ জুলাই থেকে প্রতি মাসে এই সংক্রান্ত অগ্রগতির খতিয়ান বা ‘স্ট্যাটাস রিপোর্ট’ নিয়মিতভাবে মুখ্যসচিবের কাছে পাঠানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া জ্বালানি বাঁচানোর ও গণপরিবহন ব্যবহারের পরামর্শ এবং রাজ্যের ব্যয়সঙ্কোচনের কড়া বার্তা, এই দুইয়ের মেলবন্ধনে পুরুলিয়া জেলা প্রশাসনের এই ‘বাস সফর’ নিঃসন্দেহে রাজ্যের প্রশাসনিক ইতিহাসে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।