ক্রাইম

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের নামে জালিয়াতি, সচেতনতার বার্তা পুলিশ সুপারের

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের 'অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার' প্রকল্পকে কেন্দ্র করে একটি সাইবার প্রতারণার জাল ছড়ানো হয়েছে। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের নাম করে বেশ কিছু ভুয়ো ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়েছে। এই ওয়েবসাইটগুলো ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের নামে জালিয়াতি, সচেতনতার বার্তা পুলিশ সুপারের

 

সুইটি চন্দ্র, পুরুলিয়া:

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার  শুরু হওয়ার আগেই স্ক্যাম শুরু হয়ে গেছে।  মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন যে ১লা জুন থেকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করবে।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রত্যেক মহিলাকে মাসে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের 'অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার' প্রকল্পকে কেন্দ্র করে একটি সাইবার প্রতারণার জাল ছড়ানো হয়েছে।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের নাম করে বেশ কিছু ভুয়ো  ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়েছে। এই ওয়েবসাইটগুলো ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিষয়টি নজরে আসার পর পুরুলিয়া জেলা পুলিশ নাগরিকদের সচেতন করতে  প্রচার শুরু করেছে।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেছিলেন, " অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের জন্য সম্পূর্ণ অনলাইন ব্যবস্থার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবেদন প্রক্রিয়াটি এতটাই সহজ করা হবে যাতে যে কেউ, এমনকি যাঁরা খুব বেশি শিক্ষিত নন বা স্কুলের প্রাথমিক গণ্ডি পার করেননি সহজেই পোর্টালে গিয়ে আবেদন করতে পারেন।"

পুলিশ সুপার বৈভব তেওয়ারি  
বলেন, "নতুন সরকারের অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের নাম করে প্রচুর জাল  ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়েছে। প্রতারকরা সাধারণ মানুষকে মেসেজ বা লিঙ্কের মাধ্যমে বাড়িতে বসে এই প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করার প্রলোভন দিচ্ছে।
এই জাল লিঙ্কগুলোতে ক্লিক করলে তারা আপনার নাম, আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং বাড়ির ঠিকানার মতো সংবেদনশীল তথ্য চুরি করে নেয়। এই তথ্য ব্যবহার করে প্রতারকরা আপনার অজান্তেই আপনার নামে জাল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে, যা পরবর্তীতে সাইবার ক্রাইমের কাজে ব্যবহার হতে পারে। হোয়াটসঅ্যাপ বা মেসেজে আসা কোনো এপিকে ফাইল, যেমন অন্নপূর্ণা  অ্যাপ ডাউনলোড করবেন না। এগুলো আসলে 'ম্যালওয়্যার' বা ক্ষতিকারক সফটওয়্যার, যা আপনার ফোনের সমস্ত তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে।
নিজের ফোনের কোনো ওটিপি কারো সাথে শেয়ার করবেন না এবং যাচাই না করে কোনো লিঙ্কে তথ্য দেবেন না।
যদি কেউ এই ধরনের প্রতারণার শিকার হন, তবে দেরি না করে নিকটবর্তী সাইবার থানা বা সাধারণ থানায় অভিযোগ জানান। পুলিশ এই বিষয়ে তাদের ফেসবুক এবং টুইটার হ্যান্ডেলেও নিয়মিত তথ্য শেয়ার করছে।"

বিজেপি স্টেট কাউন্সিল সদস্য
গৌতম রায় বলেন, "সাইবার অপরাধীরা একটি ভুয়ো ওয়েবসাইট তৈরি করে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালাচ্ছে।
বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে কথা হয়েছে এবং তারা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছেন।  বিশেষ করে তৃণমূলের কিছু লোক, যাদের অন্য কোনো কাজ নেই, তারা মানুষের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য এই ধরনের প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছে।"