রাজনীতি

বিধানসভায় কুড়মালি গর্জন, আদিবাসী পরিচিতির লড়াইয়ে ইতিহাস গড়লেন জঙ্গলমহলের ৫ বিধায়ক

বাংলা, হিন্দি বা ইংরেজি নয়, স্পিকারের সামনে দাঁড়িয়ে জঙ্গলমহলের পাঁচ বিজেপি বিধায়ক যখন কুড়মালি ভাষায় শপথ নিলেন, তখন আক্ষরিক অর্থেই বিধানসভায় রচিত হলো এক নতুন ইতিহাস।
বিধানসভায় কুড়মালি গর্জন, আদিবাসী পরিচিতির লড়াইয়ে ইতিহাস গড়লেন জঙ্গলমহলের ৫ বিধায়ক

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:

পশ্চিম বাংলার বিধানসভায় নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল রাজ্য রাজনীতি। বাংলা, হিন্দি বা ইংরেজি নয়, স্পিকারের সামনে দাঁড়িয়ে জঙ্গলমহলের পাঁচ বিজেপি বিধায়ক যখন কুড়মালি ভাষায় শপথ নিলেন, তখন আক্ষরিক অর্থেই বিধানসভায় রচিত হলো এক নতুন ইতিহাস। 'বুড়হাবাপেক নামে কিরিআ খাইঁ জে...' সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করে নেওয়া এই শপথ আদতে কুড়মি আন্দোলনের এক বড়সড় নৈতিক জয় হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল।

রাজ্য সরকার ২০১৮ সালে কুড়মালি ভাষাকে স্বীকৃতি দিলেও বিধানসভায় এই ভাষার কোনও অনুবাদক নেই। ফলে সচিবালয় থেকে শুরুতে জানানো হয়েছিল, প্রথাগত ভাষাগুলোতেই শপথ নিতে হবে। কিন্তু পিছু হঠেননি শালবনির বিমান মাহাতো, বাঘমুন্ডির রহিদাস মাহাতোরা। ভাষাবিদদের দিয়ে বয়ান তৈরি করিয়ে, বিধানসভা সচিবালয়ে ই-মেল পাঠিয়ে এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মাধ্যমে দরবার করে শেষ পর্যন্ত কুড়মালি ভাষায় শপথ নেওয়ার অনুমতি আদায় করে ছাড়েন তাঁরা। আদিবাসী কুড়মি সমাজের মূল মানতা অজিতপ্রসাদ মাহাতোর কথায়, "বিধানসভায় আজ আক্ষরিক অর্থেই ইতিহাস রচিত হলো।"
এদিন শুধুমাত্র ভাষাতেই নয়, বিধায়কদের পোশাকেও ছিল কুড়মি সংস্কৃতির ছোঁয়া।

গোপীবল্লভপুরের  রাজেশ মাহাতো পরনে হলুদ পাঞ্জাবি এবং মাথায় হলুদ ফেট্টি বনজর কাড়ে। বলরামপুরের জলধর মাহাতো, বাঘমুন্ডির রহিদাস মাহাতো, জয়পুরের বিশ্বজিৎ মাহাতো এবং শালবনির বিমান মাহাতো প্রত্যেকের গলাতেই ছিল কুড়মিদের ঐতিহ্যবাহী হলুদ গামছা।
শপথ শেষে তাঁদের মুখ থেকে নিঃসৃত 'জই গরাম' স্লোগান যেন বুঝিয়ে দিল, সাঁওতাল বা রাজবংশীদের মতো কুড়মিদের 'জাতিসত্তার রাজনীতি’ এখন বাংলার বুকে এক অনন্য মাত্রা পেয়েছে।

এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের মধ্যেই তৈরি হয় এক মজার পরিস্থিতি। পুরুলিয়ার বিজেপি বিধায়ক সুদীপকুমার মুখোপাধ্যায় শপথ নেওয়ার সময় নিজের নামের সাথে সগর্বে 'ভরদ্বাজ গোত্র' আউড়ে দেন। বিষয়টি শুনে প্রোটেম স্পিকার তাপস রায় ও বিধানসভার কর্মীরা হেসেই ফেলেন। শপথ শেষে রসিকতা করে প্রোটেম স্পিকার বলেন, "গোত্র বলার কোনও প্রয়োজন ছিল না। তবে ঠিক আছে, সবাই জানে মুখার্জিরা ভরদ্বাজ গোত্রেরই হয়। ওই গোত্র ছাড়া মুখার্জি হওয়া সম্ভব নয়।"