নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
পুরুলিয়ার আড়শা থানার বেলডি গ্রামের বাসিন্দা হাবুলাল গোপ (৪৫)-এর রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জেলাজুড়ে। তিনি জয়পুর বিধানসভা এলাকার বাসিন্দা এবং বিজেপির শক্তি কেন্দ্র প্রমুখ বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
পরিবার সূত্রে খবর, শুক্রবার হাবুলাল গোপ তাঁর ভাগ্নে গিরিধারী গোপকে নিয়ে মোটরবাইকে করে পুরুলিয়া মফস্বল থানার কানালি গ্রামে একটি বিয়ে বাড়িতে যান। বিকেলের দিকে তারা সেখানে পৌঁছান। সেই সময় এলাকায় প্রবল ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছিল। বিয়ে বাড়িতে পৌঁছানোর প্রায় এক ঘণ্টা পর থেকেই হাবুলাল গোপের মোবাইল ফোন নট রিচেবল হতে শুরু করে।
মৃত বিজেপি নেতার ভাগ্নে গিরিধারী গোপ জানান, “আমি মামার সঙ্গে বিয়ে বাড়িতে গিয়েছিলাম। ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছিল। পৌঁছানোর এক ঘণ্টা পর আর মামার কোনও খোঁজ পাইনি। ভেবেছিলাম কোনও আত্মীয়ের বাড়িতে রয়েছেন। পরে আমি বাড়ি ফিরে আসি। তারপর এই ঘটনা জানতে পারি।”
রাতভর খোঁজাখুঁজির পর শনিবার সকালে কানালি গ্রাম থেকে ফোন যায় হাবুলাল গোপের ভাইপো উত্তম গোপের কাছে। তাঁকে জানানো হয়, এলাকায় একটি মৃতদেহ পড়ে রয়েছে। পরে পরিবারের সদস্যরা গিয়ে মৃতদেহ শনাক্ত করেন।
পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের পুরুলিয়া বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ক্যাম্পাসে নিয়ে যায়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুরুলিয়া মফস্বল থানার পুলিশ।
মৃতের ভাইপো উত্তম গোপ বলেন, “শুক্রবার সকাল ১১টা নাগাদ কাকা আমাকে ফোন করে বলেছিল মোটরবাইকটা বিয়ে বাড়িতে নিয়ে যাবে। আমি বাইক দিয়ে দিই। রাতে জানতে পারি ওর মোবাইল নট রিচেবল। আজ সকালে মৃতদেহ উদ্ধারের খবর পাই। আমরা তদন্ত চাই। এটা খুনের ঘটনা বলেই মনে হচ্ছে।"
এদিকে, পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার বৈভব তেওয়ারি বলেন, “মৃতদেহে প্রাথমিকভাবে কোথাও স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
হাসপাতালে এসে আদিবাসী কুড়মি সমাজের মূল মানতা অজিতপ্রসাদ মাহাতো বলেন, “এটি একেবারে খুনের ঘটনা। শরীরে রক্তের দাগ রয়েছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন।”
জয়পুরের বিজেপি বিধায়ক বিশ্বজিৎ মাহাতো, বর্তমানে কলকাতায় শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে রয়েছেন। তিনিও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি তুলেছেন। তিনি বলেন, "মৃত্যু অত্যন্ত রহস্যজনক। ঘটনার নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত।”