ব্লক

রাজনৈতিক সন্ত্রাসের শিকার শহিদ পরিবারগুলিকে দেখবে পদ্ম সরকার, মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা

২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকে ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের আগে পর্যন্ত পুরুলিয়ায় একের পর এক রাজনৈতিক মৃত্যুর ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছিল জেলা।
রাজনৈতিক সন্ত্রাসের শিকার শহিদ পরিবারগুলিকে দেখবে পদ্ম সরকার, মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:

২০১৮ থেকে ২০১৯। বাংলায় বিজেপির উত্থান পর্বে পুরুলিয়ায় খুন হয়েছেন ৬ বিজেপি কর্মী সমর্থক। রাজ্যের ৩২১ শহিদ পরিবারের সঙ্গে তাঁদের পরিবারের যাবতীয় দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিলো বাংলায় ক্ষমতায় আসা পদ্ম সরকার। সোমবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এমন ঘোষণার পর যেন নতুন করে স্বাধীনতার আনন্দ ছুঁয়ে গেল রাজনৈতিক সন্ত্রাসের শিকার শহিদ পরিবারগুলিকে। শুধু তাই নয়, পুরুলিয়ার বলরামপুরে ত্রিলোচন মাহাতো ও দুলাল কুমার খুনে কেসের ফাইল আবার খোলা হবে।

শহিদ ত্রিলোচন মাহাতোর বাবা হাঁড়িরাম মাহাতো  বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী  সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে শহিদ পরিবারের পাশে থাকবেন। আমরা এতদিন ধরে অন্ধকারে ছিলাম আট বছর ধরে এতদিন পরে বিচার পাওয়ার আশায় আমাদের বুকটা ফুলে যাচ্ছে।"

শহিদ দুলাল কুমারের স্ত্রী মনিকা কুমার বলেন,"শহিদ পরিবারের সমস্ত দায়িত্ব নিয়েছে সরকার। এতে আমাদের পরিবার খুশি। আমরা এখন বিচার পাওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছি।"
২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকে ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের আগে পর্যন্ত পুরুলিয়ায় একের পর এক রাজনৈতিক মৃত্যুর ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছিল জেলা। পঞ্চায়েত ভোটের আগে বলরামপুরে খুন হন জগন্নাথ টুডু। পরে এই থানার সুপুরডিতে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় ত্রিলোচন মাহাতোর দেহ। এই থানারউ ডাভায় হাইটেনশন লাইনে ঝুলন্ত অবস্থায় মিলেছিল বুথ সভাপতি দুলাল কুমারের দেহ। জয়পুরের ঘাঘরায় পঞ্চায়েত বোর্ড গঠনকে কেন্দ্র করে পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় নিরঞ্জন গোপ ও দামোদর মণ্ডলের। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের আগে আড়শার সেনাবনায়  উদ্ধার হয় শিশুপাল সহিসের রক্তাক্ত দেহ। ছয় শহিদের প্রত্যেকে  স্বল্প আয়ের প্রান্তিক মানুষ। জেলা বিজেপির দাবি, তাঁদের আত্মবলিদানই পুরুলিয়ায় দলের সংগঠনকে শক্ত ভিত গড়ে আজ ৯ বিধানসভাতেই জয় ছিনিয়ে এনেছে।