শিক্ষা

তীব্র গরমে চলছে ডে স্কুল, অসুস্থ হয়ে পড়ছে কচিকাঁচারা, মর্নিং স্কুল কবে পুরুলিয়ায়?

তীব্র গরমে চলছে ডে স্কুল। অসুস্থ হয়ে পড়ছে কচিকাঁচারা, মর্নিং স্কুল কবে? প্রশ্ন সর্বস্তরে। উত্তর অজানা। শাসক দল তৃণমূল সহ সমস্ত শিক্ষক সংগঠনের প্রশ্ন একটাই, এমন অব্যবস্থা কেন? জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (প্রাথমিক) কানাইলাল বাঁকুড়া বলেন, "এপ্রিলের শুরুতেই পর্ষদকে চিঠি দিয়ে জানতে চেয়েছিলাম মর্নিং স্কুল করা যাবে? উত্তর আসেনি। অন্যদিকে কর্তৃপক্ষ পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছেন রাজ্য থেকে নির্দেশ না গেলে যেন স্কুল মর্নিং করা না হয়।"
তীব্র গরমে চলছে ডে স্কুল, অসুস্থ হয়ে পড়ছে কচিকাঁচারা, মর্নিং স্কুল কবে পুরুলিয়ায়?

 

সুজয় দত্ত, পুরুলিয়া :

তীব্র গরমে চলছে ডে স্কুল। অসুস্থ হয়ে পড়ছে কচিকাঁচারা, মর্নিং স্কুল কবে? প্রশ্ন সর্বস্তরে। উত্তর অজানা। শাসক দল তৃণমূল সহ সমস্ত শিক্ষক সংগঠনের প্রশ্ন একটাই, এমন অব্যবস্থা কেন? উত্তর অজানা।

সেই বাম আমল থেকেই পুরুলিয়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের রীতি ছিল এপ্রিল, মে ও জুন মাসে প্রাতঃ বিভাগে চলবে বিদ্যালয়গুলি। রাজ্যের উষ্ণতম জেলায় কচিকাঁচা শিক্ষার্থীদের দাবদাহ থেকে রক্ষা করতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্ত বহাল ছিল তৃণমূল আমলেও। গতবছর থেকেই ব্যতিক্রম। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের ক্ষমতা খর্ব করে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ মর্নিং সেশনের বিজ্ঞপ্তি বাতিল করে। ফলে এবছর আর মর্নিং সেশনের বালাই রাখেইনি পুরুলিয়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ।

তীব্র গরমে নাজেহাল পড়ুয়ারা। বাঘমুন্ডি ২ নং চক্রের বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ে তীব্র দাবদাহের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছে পড়ুয়ারা। অভিভাবকরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন। অনেকেই ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাতে চাইছেন না।

বিজেপি টিচার্স সেলের জেলা আহ্বায়ক শুভেন্দু দত্ত বলেন, "এ রাজ্যে একটাই পোস্ট। বাকি সব ল্যাম্পপোস্ট। স্কুল অতিরিক্ত গরমের কারণে মর্নিং হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও নেই দলদাস আমলাদের। মুখ্যমন্ত্রীই সেই সিদ্ধান্ত নেবেন। কিন্তু তিনি তো এখন তাঁর কেন্দ্র বাঁচাতে ব্যস্ত। ফলে চরম কষ্টই ভোগ করতে হচ্ছে পড়ুয়াদের।"

নিখিল বঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির জেলা সভাপতি জিতেন ওঝা বলেন, "অমানবিক সরকার। অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয় একতলা। তীব্র গরমে ফ্যান চললেও রোদের তাপ আগুনের হল্কার মতো লাগছে। অধিকাংশ স্কুলে অর্ধেক উপস্থিতি। তারা মিডডে মিল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অবিলম্বে স্কুল মর্নিং সেশনে করা হোক।"

উস্থি ইউনাইটেড প্রাইমারি টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সহসভাপতি চন্দন চট্টোপাধ্যায়, "অযোগ্য লোক পর্ষদ চেয়ারম্যান হলে যা হয়, তাই হচ্ছে। রাজ্যের ভৌগোলিক অবস্থা সম্পর্কে কোন ধারণা নেই তাঁর। পশ্চিমের জেলাগুলিতে এপ্রিল- মে মাসে কেমন গরম পড়ে তিনি জানেন? নিয়ম ভেঙে কেন মর্নিং স্কুল বন্ধ হলো তার কোন ব্যাখ্যাও দিতে পারেননি কেউ।"

বিষয়টিতে ক্ষুব্ধ রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থক শিক্ষক সংগঠনও। পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির জেলা সভাপতি বিপদতারণ মাহাতো বলেন, "আমাদের জেলায় দাবদাহ প্রচণ্ড। মর্নিং স্কুল হওয়া বাঞ্ছনীয়। অসুস্থ হয়ে পড়ছে পড়ুয়ারা।এত গরমে কোন বিপদ হলে দায় কে নেবে?" তিনি জানান, "সোমবার বাঘমুন্ডি ২ নং চক্রের চাটুয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ে। এই চক্রেরই কানুডি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও অসুস্থ বোধ করে পড়ুয়ারা।"
জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (প্রাথমিক) কানাইলাল বাঁকুড়া বলেন, "এপ্রিলের শুরুতেই পর্ষদকে চিঠি দিয়ে জানতে চেয়েছিলাম মর্নিং স্কুল করা যাবে? উত্তর আসেনি। অন্যদিকে কর্তৃপক্ষ পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছেন রাজ্য থেকে নির্দেশ না গেলে যেন স্কুল মর্নিং করা না হয়।"

জেলার অধিকাংশ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় মঙ্গলবার থেকে মর্নিং সেশনে চলবে। দাদা দিদিরা রেহাই পেলেও ভাইবোনদের কপালে টিকে থাকছে ভয়াবহ দাবদাহ।