টুকরো খবর

বিজেপির হ্যাট্রিক 'স্টার' কাল্টু কি পাচ্ছেন মন্ত্রীত্ব?

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় এবার ২০৬ আসন পাওয়া বিজেপিতে সুদীপ মুখোপাধ্যায় ও তাঁর রাজনৈতিক মেন্টর শুভেন্দু অধিকারী ছাড়া আর কারওর কি পরপর তিনবার বিধায়ক হওয়ার অভিজ্ঞতা আছে?
বিজেপির হ্যাট্রিক 'স্টার' কাল্টু কি পাচ্ছেন মন্ত্রীত্ব?

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:


২০১৬ সালে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সঙ্গে জোট করে বিজেপি যখন রাজ্যে ৬ টি আসন দখল করেছিল, তৃণমূল ত্যাগী তিনি সেবার জিতেছিলেন কংগ্রেসের টিকিটে। তারপর ২০২১ সালে আর এবার ২০২৬ এ পরপর দু'বার বিজেপির টিকিটে জিতে পুরুলিয়া বিধানসভায় জয়ের হ্যাটট্রিক করলেন সুদীপ মুখোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় এবার ২০৬ আসন পাওয়া বিজেপিতে সুদীপ মুখোপাধ্যায় ও তাঁর রাজনৈতিক মেন্টর শুভেন্দু অধিকারী ছাড়া আর কারওর কি পরপর তিনবার বিধায়ক হওয়ার অভিজ্ঞতা আছে? ফলে মন্ত্রীত্বের প্রবল দাবিদার পুরুলিয়ার বিধায়ক। আর তেমনটা হলে তিনিই প্রথম বিধায়ক হবেন যিনি পুরুলিয়া বিধানসভা থেকে জিতে রাজ্যের মন্ত্রী পদ পাচ্ছেন।


অন্যদিকে, জঙ্গলমহলের এই প্রবল গেরুয়া ঝড়ের দাপটে হ্যাটট্রিকের স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল বান্দোয়ানের প্রাক্তন বিধায়ক তথা পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল সভাপতি রাজীবলোচন সোরেনের।

বিতর্ক আর ভাইরাল হওয়া যেন শহর পুরুলিয়ার ভাগাবাঁধ পাড়ার বাসিন্দা বছর পঞ্চাশোর্ধ্ব সুদীপবাবুর নিত্যসঙ্গী।সম্প্রতি বেআইনি বালির কারবারে নাম জড়ানো বা নিজের দলের কর্মীকে মারধরের অভিযোগে তিনি সমালোচিত হয়েছেন। এর আগে ২০১৭ সালে কংগ্রেসের কাউন্সিলর থাকাকালীন পুরসভার রেজোলিউশন খাতা বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তিনি গ্রেফতারও হয়েছিলেন। বিরোধীদের প্রধান প্রচারই ছিল, তিনি ব্যক্তিগত জনসেবা করলেও এলাকায় সেভাবে কোনো উন্নয়ন করেননি।

ফলে এবারের ভোটে সুদীপের টিকিট পাওয়া নিয়েই দলের অন্দরে যথেষ্ট সংশয় ছিল। দলের সবল লবির মধ্যে যেন তিনি মিসফিট। সে সব বাধা পেরিয়ে টিকিট পেলেও, দলের ভেতরের অন্তর্ঘাত নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। প্রধানমন্ত্রীর সভা ছাড়া তাঁর হয়ে কোনও 'স্টার' প্রচারকও আসেননি। কিন্তু ভোটের আগে 'পুরুলিয়া মিরর'-র পডকাস্টে আত্মবিশ্বাসী সুদীপ বলেছিলেন, "আমার ভোটাররাই তো স্টার! পুরুলিয়াকে দেখতেই সারা বছর কত পর্যটক এখানে পা রাখেন। আদিবাসী গ্রাম দেখতে যান। পুরুলিয়ার মানুষ-ই স্টার!" তাঁর এই কথাই যে ছাব্বিশের ভোটে ম্যাজিকের মতো কাজ করেছে, তা আজ স্পষ্ট।

জেলা রাজনৈতিক মহলের মতে, সুদীপবাবুর ব্যক্তিগত 'জনসেবা'-ই তাঁকে জয়ের হ্যাটট্রিক এনে দিয়েছে। রাত-বিরেতে বিপদে বা অসুখে-বিসুখে এলাকার দুঃস্থ মানুষ তাঁকে সবসময় পাশে পান। মানুষের প্রতি তাঁর এই সেবাপরায়ণ মনোভাবের কাছেই ফিকে হয়ে গিয়েছে বাকি সমস্ত বিতর্ক ও উন্নয়নের অভাব।

সোমবার সকালে পোস্টাল ব্যালট গোনা শুরু হতেই তাঁর সেই আত্মবিশ্বাসের প্রমাণ মেলে। ২২ রাউন্ড গণনা শেষে একবারের জন্যও তিনি পিছিয়ে পড়েননি, বরং ক্রমশ লিড বাড়িয়ে বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।

টানা তৃতীয়বার জয়ের পর উচ্ছ্বসিত বিধায়ক বলেন, "পুরুলিয়ার মানুষ আমাকে ভালোবাসেন। এই কৃতিত্ব মানুষের। যেখানে যে কাজ করতে পারিনি। এবার তা সম্পূর্ণ করবো।"