insta logo
Loading ...
×

মাঝ জুনেও দহনজ্বালা পুরুলিয়ায়, বন্ধ স্কুল, পর্যটনে তালা

মাঝ জুনেও দহনজ্বালা পুরুলিয়ায়, বন্ধ স্কুল, পর্যটনে তালা

সুইটি চন্দ্র, পুরুলিয়া ও অমরেশ দও, মানবাজার:


মাঝ জুনের দাবদাহে যেন স্তব্ধ পুরুলিয়া!
পশ্চিমাঞ্চলের এই জেলায় জুন মাস পড়তেই যেন গরম হঠাৎ করেই চরমে উঠেছে। দীর্ঘদিন ঠান্ডা-মৃদু আবহাওয়ার পর হঠাৎ করে এমন দাবদাহে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জেলার সাধারণ মানুষ।
গ্রামাঞ্চলে পানীয় জলের সমস্যাও দেখা দিয়েছে। এই গরম অসহনীয় হয়ে যাওয়ায় ছুটি হয়ে গিয়েছে স্কুল।

শহরের রাস্তাঘাট কার্যত ফাঁকা। দুপুর ১১টা পেরোলেই রঘুনাথপুর শিল্পাঞ্চলেও লোকজন দেখা যাচ্ছে না। শুনশান হয়ে গিয়েছে আদ্রা রেল শহর। মানবাজারের বাজার অঞ্চলেও দুপুরে ঝিমিয়ে পড়ছে জনজীবন।
একই অবস্থা ঝালদা মহকুমা শহরেরও। তবে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছুঁয়েছে এমনটা নয়। কিন্তু ৩৭-৩৮ ডিগ্রির তাপমাত্রাতেও গরমের অনুভব যেন ৪২-এর কাছাকাছি। এই পরিস্থিতিতে খোলা রাস্তায় বেরোলে ঘেমে একেবারে কাহিল হয়ে পড়ছেন মানুষজন।

জীবন চালাতে বাধ্য, রোদে নামছেন খেটে খাওয়া মানুষজন। মানবাজারের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেল, রোদের তাপে পুড়তে পুড়তে কাজ করছেন নির্মাণ শ্রমিক, দিনমজুর ও ফেরিওয়ালারা। তাঁদের মধ্যে একজন, স্থানীয় শিক্ষার্থী উদয়ভানু মন্ডল বলেন,
“এই গরমে বাইরে দাঁড়ানোই দায়, অথচ অনেককেই কাজের খাতিরে রাস্তায় থাকতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়।” মানবাজারের দাসপাড়ার বাসিন্দা তাপস দাস জানিয়েছেন,
“গোটা দুপুরটা এক গ্লাস জল হাতে নিয়ে বসে থাকতে হয়। বিদ্যুৎ থাকলে তাও একটু স্বস্তি, না হলে ঘরেই টেকা যায় না।”

গরমের জেরে পুরুলিয়ার মূল পর্যটন এলাকাগুলিও এখন কার্যত ফাঁকা। অযোধ্যা পাহাড়, বড়ন্তি, গড় পঞ্চকোটে নেই তেমন কোনও ভ্রমণপ্রেমী। অথচ অন্যান্য বছরে এই সময়ের বিকালে পাহাড়ি হাওয়ার সঙ্গে মিশে মনোরম আবহাওয়ায় কিছু পর্যটক দেখা যেত। কিন্তু চলতি বছরে দিনের বেলাতেও এমন গরম পড়ছে যে ইন্ডোর বা বিকেলের একটিভিটি করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

এই গরমে কী কী করণীয় ও বর্জনীয়:-

করনীয়:-
১.দিনে অন্তত ৩-৪ লিটার জল পান করুন

২.ঢিলেঢালা সুতি জামাকাপড় পরুন

৩.দুপুর ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রোদ এড়িয়ে চলুন

৪.রোদে বের হলে ছাতা/টুপি/সাদা রুমাল ব্যবহার করুন

৫.ওআরএস বা লবণ-চিনির জল খান

বর্জনীয়:-

১.রোদে দৌড়ঝাঁপ বা ব্যায়াম করা

২.অতিরিক্ত ফ্রিজের ঠান্ডা জল বা আইসক্রিম খাওয়া

৩.গাঢ় রঙের পোশাক পরা

৪.খালি পায়ে রাস্তায় হাঁটা

৫.ঝাল/অ্যসিডিক খাবার খাওয়া

একদিকে তীব্র গরম, অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিভ্রাট — সব মিলিয়ে জেলাবাসীর দুর্ভোগ চরমে। প্রশাসনের তরফে এই পরিস্থিতি সামাল দিতে কার্যকর কোনও ব্যবস্থা এখনও দেখা যায়নি। এখন দেখার বিষয়, এই দাবদাহের শেষে কখন মিলবে স্বস্তির বর্ষা।

Post Comment