নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
আলোচনার পরও মিলল না সমাধান। পুরুলিয়া গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ইন্টার্ন ও ডাক্তারি পড়ুয়াদের আন্দোলন বৃহস্পতিবারও জারি থাকল। কলেজ কর্তৃপক্ষ, স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিক, পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তা এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকেও মেলেনি কোনও রফাসূত্র। উলটে বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে হাসপাতাল চত্বর।
অভিযোগ, মূল গেট বন্ধ করে বিক্ষোভ দেখান ইন্টার্ন ও ডাক্তারি পড়ুয়ারা। বিক্ষোভের জেরে হাসপাতালে ঢোকা–বেরোনো বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি হাসপাতালের ভেতরেই জেলা তৃণমূল সভাপতি, জেলা পরিষদের সভাধিপতি, সহসভাধিপতি, তৃণমূল বিধায়ক, জেলা প্রশাসনের কর্তা এবং স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকদের গাড়ি আটকে রাখেন আন্দোলনকারীরা। ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় বিশাল পুলিশ বাহিনী।
এই বিক্ষোভের মধ্যেই মেজাজ হারান জেলা পরিষদের সহসভাধিপতি সুজয় ব্যানার্জী। গেট আটকানো নিয়ে তাঁর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের কথাকাটাকাটি হয় বলে অভিযোগ। সেই ঘটনার ভিডিও মুহূর্তে ভাইরাল হয় সামাজিক মাধ্যমে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সুজয়বাবু।
জানা গিয়েছে, প্রায় দুই ঘণ্টা তালাবন্ধ অবস্থায় আটকে ছিলেন স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিক, জনপ্রতিনিধি ও পুলিশকর্তারা। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়।
ইন্টার্নদের দাবি, পুরুলিয়া গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের দুটি পৃথক ক্যাম্পাস—একটি শহরে, অন্যটি হাতোয়াড়ায়। দুটি ক্যাম্পাসের দূরত্ব প্রায় ছয় কিলোমিটার। ফলে পড়াশোনা ও পরিষেবা দুই ক্ষেত্রেই প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয় তাঁদের। রাতে যাতায়াতের সময় নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। তাই সমস্ত বিভাগ হাতোয়াড়া ক্যাম্পাসে স্থানান্তরের দাবিতে সোমবার থেকেই অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে সামিল হয়েছেন ইন্টার্নরা ও ডাক্তারি পড়ুয়ারা।
বুধবারের বৈঠকে তাঁদের দাবি নিয়ে আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায়নি। উল্টে জনপ্রতিনিধিরা মাঝপথেই বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যান। এরপরই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে হাসপাতাল চত্বর, শুরু হয় বিক্ষোভ।
প্রশাসনের আশ্বাসে আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হলেও ইন্টার্নদের অবস্থান বদলায়নি। তাঁরা জানিয়েছেন, দাবি না মানা পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে।











Post Comment