নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া :
শহর পুরুলিয়ার অন্যতম ব্যস্ত কেন্দ্র বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড প্রশাসনের সামনে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বেআইনি দোকান কীভাবে গজিয়ে উঠল, কেন ছিল না ন্যূনতম অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আর এত বড় বিপর্যয়ের পরেও কীভাবে আবার দোকান তৈরির চেষ্টা চলছে? বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ আগুনে এক মহিলার মৃত্যুর পর নড়েচড়ে বসল প্রশাসন।
গত ১৪ তারিখ মধ্যরাতে পুরুলিয়া বাসস্ট্যান্ডের পেছনের অংশে, জেলা প্রশাসনের ওয়ারহাউস সংলগ্ন এলাকায় আচমকা আগুন লাগে। মাত্র আধঘন্টার মধ্যেই ভস্মীভূত হয়ে যায় ১১টি দোকান। হোটেল, জলের দোকান ও ফলের পাইকারি দোকান—সব মিলিয়ে ক্ষয়ক্ষতির অঙ্ক প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের। তাই
ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে পুরুলিয়া সদর মহকুমাশাসক তথা পুরুলিয়া পুরসভা-র প্রশাসক উৎপলকুমার ঘোষ দমকল বিভাগের কাছে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তলব করেছেন। তাঁর বক্তব্য,
“অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ কী এবং ওই এলাকায় ভবিষ্যতে কীভাবে অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা জোরদার করা যায়—সেই উদ্দেশ্যেই রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে।”
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, পুড়ে যাওয়া একাধিক দোকানই ছিল অনুমোদনহীন ও অস্থায়ী কাঠামোর। আশঙ্কার বিষয়, কোনও দোকানেই ন্যূনতম অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা—ফায়ার এক্সটিংগুইশার বা জরুরি নিরাপত্তা সরঞ্জাম—ছিল না। ফলে আগুন লাগার পর তা নিয়ন্ত্রণে আনা কার্যত অসম্ভব হয়ে ওঠে। দমকল বিভাগ খতিয়ে দেখছে ওই দোকানগুলিতে দাহ্য পদার্থ মজুত ছিল কি না। পাশাপাশি অভিযোগ উঠেছে, অগ্নিকাণ্ডের পরেও ওই এলাকায় ফের নতুন করে দোকান গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে—যা প্রশাসনিক নিয়মের সরাসরি লঙ্ঘন।
এ ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে—পুরসভা এলাকায় এভাবে কি বিধি বহির্ভূত দোকান বসানো যায়? ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছে এসইউসিআই (কমিউনিস্ট)। পাশাপাশি তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ভবিষ্যতে যাতে বেআইনি দোকান বসতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
বাসস্ট্যান্ডের ঘটনার পর পুরসভা পরিচালিত সমস্ত মার্কেট কমপ্লেক্সে অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার ইঙ্গিত দিয়েছেন মহকুমাশাসক। লক্ষ্য একটাই—এই ধরনের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন আর না ঘটে।
পুরুলিয়া মহকুমা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, দমকল বিভাগের রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আপাতত নজর এখন একটাই। পুরুলিয়ার ক্ষুদ্র বাজারগুলিতে কিভাবে অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা জোরদার করা যায় ।











Post Comment