সুইটি চন্দ্র, পুরুলিয়া:
জঙ্গলমহলের বুকে রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে আবারও শুরু হচ্ছে বন দপ্তরের ‘নাইট পেট্রোলিং’। পূর্ণিমার রাতে বনাঞ্চলে আরও এক অভিনব
উদ্যোগ ‘মুনলাইট ডিউটি’। একইসঙ্গে চালু হচ্ছে মাসিক ‘প্রোটেকশন কনফারেন্স’। পুরুলিয়া বনবিভাগের এই নতুন কর্মসূচির মূল লক্ষ্য জঙ্গল ও বন্যপ্রাণ রক্ষা এবং চোরাশিকার ও কাঠচোরদের দমন।
বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী মাস থেকেই নির্দিষ্ট মডিউলের ভিত্তিতে পুরুলিয়ার বিভিন্ন বনাঞ্চলে শুরু হবে এই কার্যক্রম। ইতিমধ্যেই এর প্রাথমিক পর্বে, বুধবার রাতে পুরুলিয়া বনবিভাগের আধিকারিক ও কর্মীরা রাত ১টা পর্যন্ত মুনলাইট ডিউটিতে অংশ নেন। ডিএফও অঞ্জন গুহ এবং এডিএফও সায়নী নন্দীর নেতৃত্বে ঝালদার খামার থেকে শুরু করে কোটশিলা, মুরগুমা, বামনি, অযোধ্যা হয়ে বাঘমুণ্ডি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল এই নাইট ট্রেল।
এডিএফও সায়নী নন্দী জানান, “পুলিশের মতো আমাদেরও রাতের পাহারার ব্যবস্থা আছে। যদিও অতীতে তা ধারাবাহিকভাবে চালু ছিল না। এখন থেকে তা নিয়মিত করা হবে। পাশাপাশি প্রতি মাসে ‘প্রোটেকশন কনফারেন্স’ হবে, যাতে বনকর্মীদের কাজের পর্যালোচনা ও দুর্বলতা চিহ্নিত করে আরও কার্যকরী রূপে পরিকল্পনা নেওয়া যায়।”

পুরুলিয়া বনবিভাগের বক্তব্য, এই পরিকল্পনার মাধ্যমে জঙ্গলে চোরাশিকার, কাঠচুরি বা বন্যপ্রাণ সংক্রান্ত অপরাধ যাতে না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে চাইছে দপ্তর। যেসব এলাকায় পেট্রোলিং হবে, সেইসব এলাকার অক্ষাংশ-দ্রাঘিমাংশ নির্দিষ্ট করে রিপোর্ট জমা দিতে হবে। এর মাধ্যমে বোঝা যাবে কোন এলাকায় নজরদারি বাড়ানো দরকার এবং কীভাবে আরও শক্তিশালী নিরাপত্তা গড়ে তোলা যায়।
এছাড়াও, পূর্ণিমার রাতে চাঁদের আলোয় জঙ্গলের রূপ ও বন্যপ্রাণের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে জঙ্গল পর্যটনের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হবে। বনদপ্তর মনে করছে, ভবিষ্যতে ‘নাইট সাফারি’ বা মেগা পর্যটন প্রকল্পের পথও খুলে যেতে পারে এই উদ্যোগের মাধ্যমে।
উল্লেখ্য, ঝাড়খণ্ড সীমান্তবর্তী এই জেলার বেশ কয়েকটি বনাঞ্চল হাতি উপদ্রুত। পাশাপাশি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, ভল্লুক সহ বহু বিলুপ্ত প্রায় বন্যপ্রাণ-র উপস্থিতি নতুন করে প্রাণ ফিরিয়েছে জঙ্গলে। অযোধ্যা পাহাড় ঘিরে থাকা বলরামপুর, আড়শা, মাঠা, কোটশিলা, বাঘমুণ্ডি এবং ঝালদা বনাঞ্চলে স্থায়ীভাবে কিছু বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণ বসবাস শুরু করেছে। যা বন দপ্তরের ট্র্যাপ ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। এতে যথেষ্ট উৎসাহিত বনবিভাগ।
এই মুনলাইট ডিউটি শুধু বন ও বন্যপ্রাণ রক্ষায় নয়, পর্যটন সম্ভাবনাকেও আরও উজ্জ্বল করে তুলবে বলে মনে করছে বনদফতর। নিঃসন্দেহে, পুরুলিয়া বনবিভাগের এই উদ্যোগ রাজ্যের বন সুরক্ষার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে।


Post Comment